হরিপদ পাল, শামুকতলা : মাত্র ২ জন চিকিত্সকের উপর ভর করেই চলছে ভাটিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল। ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিসেবা থেকে শুরু করে ৩০ শয্যার অন্তর্বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ সবই রয়েছে ভাটিবাড়ি গ্রমীণ হাসপাতালে। পরিকাঠামো ঠিকঠাক থাকলেও শুধুমাত্র পর্যাপ্ত চিকিত্সকের অভাবে পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। কর্তব্যরত চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ না থাকলেও চিকিত্সা পরিসেবায় বিঘ্ন ঘটায় অসন্তোষ বাড়ছে ভাটিবাড়ির বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে।

রাজ্যের মধ্যে একমাত্র আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে দুটি গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে। যশোডাঙ্গার পাশাপাশি ভাটিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালেও রোগীর চাপ বেশি। এই হাসপাতাল চালুর সময় থেকেই ৫ জন চিকিত্সকের অনুমোদন রয়েছে। একসময় এই হাসপাতালে ৫ জন চিকিত্সক ছিলেন। তবে কয়েক বছর ধরে ৩ জন চিকিত্সককে দিয়ে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি ডাঃ ভাস্কর সেনকে এখান থেকে বদলি করে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পাঁচকেল গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই অবস্থায় বাকি দুজন চিকিত্সকই ইমারর্জেন্সি, ইনডোর, ওপিডি ও প্রসূতি বিভাগ সামলাচ্ছেন। চিকিত্সকের অভাবে স্বাভাবিক চিকিত্সা পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। পারোকাটার এক বাসিন্দা রতন বর্মন বলেন, আউটডোরে কখনো কখনো চিকিত্সক না থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। টটপাড়া এলাকার জয়ন্ত দেবনাথ বলেন, ইমারর্জেন্সি বিভাগেও সব সময় ডাক্তার পাওযা যায় না। ফলে মাঝেমধ্যেই ভোগান্তি হয়। স্থানীয় চিলুরঘাট প্রাথমিক বিদ্যালযে শিক্ষক মনোজ রাযে বক্তব্য, দুজন চিকিত্সকের পক্ষে কি করে হাসপাতালের সবদিক সামলানো সম্ভব?  তাঁদেরও তো বিশ্রামের প্রযোজন রয়েছে।

ভাটিবাড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, এই গ্রামীণ হাসপাতালের উপর ভাটিবাড়ি, পারোকাটা, মহাকালগুড়ি, টটপাড়া-২ এবং চাপরেরপাড়-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লক্ষাধিক মানুষ নির্ভরশীল। সেই গুরুত্বের দিকে লক্ষ রেখে হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিত্সকের বন্দোবস্ত করা উচিত। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার-২ ব্লক সভাপতি তথা ভাটিবাড়ির বাসিন্দা রানা পাল বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক  চিকিত্সক না থাকায় মানুষ সঠিক পরিসেবা পাচ্ছে না। বিষয়টি দলের তরফে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ভাটিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট রূপম রায় চিকিত্সক কম থাকায় অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতেও আমরা হাসপাতালের সমস্ত পরিসেবা সচল রাখার চেষ্টা করছি।আলিপুরদুয়ার জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (২) ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, জেলাজুড়েই চিকিত্সকের অভাব রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিত্সকদের অদলবদল করে কাজ চালানো হচ্ছে। নতুন যাঁরা আসছেন তাঁরা সীমান্তবর্তী এই জেলায় কাজ করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ভাটিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নতুন কোনো ডাক্তার যোগ দেননি, উপরন্তু এখানকার এক ডাক্তারকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সমস্যার মধ্যেও দুজন ডাক্তার যথাসাধ্য চিকিত্সা পরিসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।