টোটো চালিয়ে সংসার টানছেন পচাগড়ের সুনতি

294

মাথাভাঙ্গা : টোটো চালিয়ে সংসার টানছেন এক মহিলা। রোজ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য টোটোতে চাপিয়ে বাজারে নিয়ে আসেন মাথাভাঙ্গা মহকুমার একমাত্র মহিলা টোটোচালক সুনতি বর্মন (৩৫)। সুনতির দায়িত্ব ও সময়ানুবর্তিতার কারণে এলাকার কৃষকরাও অন্য টোটোচালকের পরিবর্তে সুনতির টোটোর খোঁজ আগে করেন। মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুনতির সংসার চলে টোটোর চাকা ঘুরলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সুনতির বাবা লালু বর্মন ২০ বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর একজন বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে  সহ মোট ৫ মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে অথই জলে পড়েন সুনতির মা। কৃষিশ্রমিকের কাজ করে কোনওমতে সংসার চললেও বয়সজনিত কারণে কয়েক বছর আগেই কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। আর পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ার জন্য সংসারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ৩ বছর আগে টোটো চালানোকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন সুনতি।

সুনতির কথায়, সাইকেল চালাতে পারি। তাই টোটো চালাতে অসুবিধা হবে না বুঝতে পেরে টোটো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৩ বছর আগে টোটো কিনেছি। আর তারপর থেকে নিয়মিত টোটো চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে সংসার কোনওমতে চলে যায়।

- Advertisement -

প্রতিদিন সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে প্রাতরাশ সেরে টোটোতে চেপে বসেন সুনতি। আর তারপর এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য মাথাভাঙ্গা শহরে নিয়ে আসা তাঁর কাজ। এরপর মাথাভাঙ্গা শহর থেকে যাত্রী নিয়ে পঞ্চানন মোড়, বেলতলা, কালীবাড়ি যাতায়াত তাঁর। বিকাল ৪টা পর্যন্ত টোটো চালিয়ে বাড়ি ফেরা রোজকার রুটিন সুনতির। সংসারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে নিজের বিয়ের কথা এখনও ভেবে উঠতে পারেননি সুনতি। পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়ে প্রধান উদয় সরকার বলেন, মেয়েরা যে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কাজ করতে পারেন, সুনতি তার অন্যতম  উদাহণ।