শিলিগুড়ি : শহরের ফুটপাথগুলি এমনিতেই সকাল থেকে রাত অবধি দখল হয়ে থাকে। এর মধ্যে হিলকার্ট রোড থেকে শুরু করে সেবক রোড, সব জায়গাতেই ফুটপাথে কিছু ম্যানহোল খোলা অবস্থায় রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু জায়গায় স্থানীয় ব্যবসাযীরা নিজেদের উদ্যোগে অস্থাযীভাবে কাঠের পাটাতন বা পাথর দিযে খোলা মুখগুলি ঢাকার চেষ্টা করেছেন। কোথাও আবার পথচলতি মানুষকে সচেতন করার জন্য গর্তের ভিতর বাঁশ ঢুকিযে তার উপরে লাল কাপড় টাঙিযে দেওয়া হয়েছে। শহরের ম্যানহোলগুলির কয়েকটির মুখ বিপজ্জনকভাবে খোলা থাকায় আতঙ্কিত  শহরবাসী। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

হিলকার্ট রোড, সেবক রোড ও বিধান রোডের মতো প্রধান সড়কগুলিতে হকারদের ফুটপাথ দখল ও অবৈধ পার্কিংযে সমস্যা রয়েছে। এমনিতেই যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়েন পথচারীরা। এর মধ্যেই ফুটপাথে থাকা কয়েকটি ম্যানহোলের খোলা মুখ তাঁদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর কালীপুজোর সময় খোলা ম্যানহোলে পড়ে গিযে আহত হন এক বিজেপি নেতা। তখন সেই ম্যানহোলের মুখ ঢেকে দেওয়া হলেও বাকিগুলি খোলা পড়ে রয়েছে। চার্চ রোড যেখানে সেবক রোডের সঙ্গে মিশেছে, তার কাছেই রয়েছে একটি ম্যানহোলের খোলা মুখ। সেখানে পথচারীদের সতর্ক করার জন্য় বাঁশের মাথায় লাল কাপড় লাগানো রয়েছে। স্থানীয় দোকানদার সন্দীপ আগরওযাল বলেন, ‘ছয়মাস ধরে ম্যানহোলের মুখ ভেঙে এভাবে খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মাস তিনেক আগে এক ব্যক্তি এখানে পড়ে গিয়েছিলেন। এরপরই আমরা পথচারীদের সচেতন করতে এই ব্যবস্থা করেছি।’ সেবক রোডের ওই অংশ থেকে কিছুটা দূরে এরকমই আরেকটি খোলা ম্যানহোল রয়েছে। পানিট্যাঙ্কি মোড় সংলগ্ন বিধান রোডের ফুটপাথের অংশেও একইরকম খোলা মুখ রয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় দোকানদাররা সেখানে কাঠের পাটাতন রেখে দিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসাযী অজয় রায় বলেন, ‘আটমাস ধরে এরকম পরিস্থিতি রয়েছে। তাই স্থানীয় ব্যবসাযীরা সবাই মিলে কাঠের পাটাতন দিয়েছি। হিলকার্ট রোডে লোকনাথ সরণি সংলগ্ন ম্যানহোলটির মুখও খোলা অবস্থায় রয়েছে।’

শহরের বাসিন্দা প্রশান্ত রায় বলেন, ‘এমনিতেই শহরে ফুটপাথ দিযে হাঁটা যায় না। এর মধ্যেই ফুটপাথে থাকা কিছু ম্যানহোল এভাবে খোলা থাকার বিষয়টি সত্যিই আশঙ্কার হযে উঠেছে।’ সেবক রোডের ব্যবসাযী প্রকাশ রায় বলেন, ‘শহরে দূরদূরান্ত থেকে বহু পর্যটক আসেন। তাঁরা ম্যানহোলের খোলা মুখ দেখে অবাক হযে যান। কেন এগুলি খোলা রয়েছে, সেবিষযে প্রশ্ন করেন। বিষয়টি একদিকে যেমন লজ্জার, তেমনই বিপজ্জনক।’ শহরের আরেক বাসিন্দা মালতী রায় বলেন, ‘গত কালীপুজোয় রাজনৈতিক দলের এক নেতা গর্তে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলের টনক নড়েছিল। সেই সময় পুরনিগম থেকে বলা হয়েছি খোলা ম্যানহোলগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি ঢাকা দেওযা হবে। কিন্তু কোথায় আর তা হল।’

পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গায় ম্যানহোলের মুখ খোলা রয়েছে, সেগুলি বেশিরভাগই পূর্ত দপ্তরের। আমরা এ বিষযে পূর্ত দপ্তরকে বলেছি। পাশাপাশি খোলা ম্যানহোলগুলির মুখ বন্ধ করার জন্য আমরাও ব্যবস্থা নিচ্ছি।’