বৃদ্ধার গলায় আটকে খোলা সেফটিপিন, অস্ত্রোপচারে সফল জেলা হাসপাতাল

115

আসানসোল: বাড়িতে মুড়ি খাওয়ার সময় অসাবধানতায় খোলা সেফটিপিন খেয়ে ফেলেছিলেন আসানসোলের এক বৃদ্ধা। ঘটনাটি তিনদিন আগের। রবিবার এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই খোলা সেফটিপিন বার করলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা ইএনটি সার্জেন ডাঃ বীরেশ্বর মন্ডল।

চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অস্ত্রোপচারকে বলা হয় ‘ইসোফেগোসকপি’। অস্ত্রপচারে বীরেশ্বর মন্ডলের সঙ্গে ছিলেন জেলা হাসপাতালের অ্যানাসথেটিক্স চিকিৎসক জাহাঙ্গীর মল্লিক। ঝুঁকি নিয়ে করা এই অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় বৃদ্ধা প্রাণে যে বাঁচলেন তা বলা যেতেই পারে। জেলা হাসপাতাল স্তরে সাধারণত এই ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়না। এই ধরনের অস্ত্রোপচার মেডিকেল কলেজ বা সুপার স্পেশালিটি বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে হয়। সেক্ষেত্রে, তা যথেষ্টই ব্যয়বহুল। এই ধরনের অস্ত্রোপচার করে থাকেন কার্ডিওথোরাসিক সার্জেনরা। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, আসানসোল জেলা হাসপাতালের ইএনটি সার্জেন এই অস্ত্রোপচার করে নজির গড়লেন।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা সীমাবদ্ধ ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রোগীদের বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করছেন। ইএনটি বিভাগ তার মধ্যে অন্যতম।‘

জানা গিয়েছে, জামুড়িয়ারর বাসিন্দা ৬০ বছরের বৃদ্ধা তারা রাউত। এদিন তাঁর অস্ত্রপচার করে সেফটিপিন বার করা হয়। তিনি তিনদিন আগে বাড়িতে মুড়ি খাচ্ছিলেন অসাবধানতায় কোনভাবে মুড়ির সঙ্গে একটি খোলা সেফটিপিন তিনি খেয়ে ফেলেন। কিন্তু যখন তিনি তা বুঝতে পারেন, তখন আর কিছু করার ছিল না। ততক্ষনে খোলা সেফটিপিন মুখ দিয়ে গলায় চলে যায়। পরে বাড়ির লোকেরা সেই ঘটনার কথা জানতে পারেন। পরবর্তীতে শনিবার ওই বৃদ্ধাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ইএনটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এদিন হাসপাতালের ইএনটি সার্জেন ডাঃ বীরেশ্বর মন্ডল বৃদ্ধার গলার এক্সরে করানোর ব্যবস্থা করান। তারপর সেই রিপোর্টে দেখা যায় যে, খোলা সেফটিপিন কোথায় আটকে আছে।

ডাঃ মন্ডল বলেন, ‘এক্সরে রিপোর্টে দেখি ওই রোগীর ইসোফেগাসে তথা গলার একবারে শেষে সেফটিপিনটা আটকে আছে। ইতিমধ্যেই তিনদিন হয়ে গেছে। এটা বার করতে না পারলে রোগীর সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, রোগীর হাইপার টেনশনের মতো শারীরিক সমস্যা আছে। তবুও আমি বাড়ির লোকেদের মত নিয়ে ইসোফেগাসকপি করে সেই খোলা সেফটিপিন বার করি৷ বেশি সময় লাগেনি। এই ধরনের অস্ত্রোপচার কার্ডিওথোরাসিক সার্জেনরা করে থাকেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু সময় পর্যবেক্ষনে রাখার পরে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের লোকেরাও খুশি এই অস্ত্রোপচারে। তাঁরা জানান, আসানসোল জেলা হাসপাতালে এটা যে হবে, তা ভাবতেই পারিনি।