দীর্ঘদিন ধরে মাদারিহাটে মুক্তমঞ্চ বন্ধ, সংস্কৃতিচর্চায় সমস্যা

280

মাদারিহাট : মাদারিহাটের মিলন পাঠাগার প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চটি অনেকদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ওই মঞ্চে নাচ, গানের ক্লাস, ক্যারাটে সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও এখন তা কার্যত বন্ধ। ফলে মাদারিহাটের সাংস্কৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ক্ষোভ এবং অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে কর্মীর অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ হয়ে যায় মিলন পাঠাগার। পাঠাগার বন্ধের পর মুক্তমঞ্চটি কয়েক মাস খোলা থাকলেও গত বছরের শেষে সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকে অবস্থিত মিলন পাঠাগার। পাঠাগার প্রাঙ্গণে মুক্তমঞ্চটি তৎকালীন সাংসদ মনোহর তিরকির অর্থানুকূলে তৈরি হয়। কর্মীর অভাবে পাঠাগার বন্ধের ফলে মুক্তমঞ্চটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয় কমিটি তৈরি করে বা কাউকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠাগার প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চটি ফের ব্যবহারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। মাদারিহাটের বিবেকানন্দ বিদ্যাভবন স্কুলের শিক্ষক প্রভাস বরগাঁও বলেন, মাদারিহাটের একমাত্র মুক্তমঞ্চটি বন্ধ থাকার ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেকটাই কমে গিয়েছে। কর্মীর অভাবে পাঠাগার বন্ধ রয়েছে। তবে মুক্তমঞ্চটি খোলা রাখা উচিত ছিল। মাদারিহাটের জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ফের এটিকে খোলার ব্যবস্থা করুক। প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ দাস বলেন, মিলন পাঠাগারের মুক্তমঞ্চটি সেপ্টেম্বর মাস থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এই মঞ্চটি এক সময়ে নৃত্যানুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তদান শিবির ছাড়াও অনেক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হত। মাদারিহাটের বুকে অবস্থিত এই একমাত্র মুক্তমঞ্চটি বন্ধ হওয়ায় সকলেরই অসুবিধা হচ্ছে।

- Advertisement -

মাদারিহাট থানার অন্তর্গত পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন আহ্বায়ক তথা স্থানীয় বাসিন্দা দীপনারায়ণ সিনহা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূল জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। উনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন। অপরদিকে, মিলন পাঠাগারের সঞ্চালন কমিটির সম্পাদক মধুসূদন চক্রবর্তী বলেন, আমরা স্থানীয় সঞ্চালন কমিটি ঠিক করেছি এই পাঠাগারের দাযিত্ব আর নেব না। সেজন্য তালা মেরে জেলা আধিকারিককে চাবি দেওয়া হয়েছে। কর্মী নিযোগ না হওয়া পর‌্যন্ত এই পাঠাগার এবং মুক্তমঞ্চ ব্যবহার করা যাবে না। পরিচালন কমিটির সদস্য নীতীশ পাল বলেন, লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় এক সময়ে নিয়মিত পাঠকরা যেমন চায়ের দোকান বা অন্যত্র আড্ডা দিচ্ছেন তেমনি নাচ, গানের ক্লাসগুলিও হচ্ছে না। এর জেরে সংস্কৃতির ক্ষতি হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলার গ্রন্থাগার আধিকারিক শিবনাথ দে বলেন, সরকারি লোক না থাকলে স্থানীয় কমিটি দায়িত্ব নিতে পারে না। কর্মীর অভাবে ৩৭টার মধ্যে ১৩টি পাঠাগার বন্ধ। মে মাসে আরও দুটো বন্ধ হবে। সমস্যা হলে আমরা কোনও একজনকে ওই লাইব্রেরিতে নিয়োগের চেষ্টা করব। তবে এখনই এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।