৪ লক্ষ টাকার আফিম উদ্ধার, গ্রেপ্তার চার

227

কালিয়াচক: আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের করিডোরে পরিণত হয়েছে কালিয়াচক।

জালনোটের পর এবার মাদক পাচার চক্রের রমরমা চলছে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরে। লকডাউনের মধ্যেই জেলাজুড়ে পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও শতাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

- Advertisement -

রবিবার রাতে গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ একটি অভিযান চালিয়ে ভিনরাজ্যের ৪ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল নাঈম আনসারী (২৯), ইমতিয়াজ আনসারী (২৯), তৌফিক আনসারী (২৪)ও প্রদীপ কুমার মাহাতো (১৯)। ধৃতদের সকলের বাড়ি ঝাড়খন্ডের রাঁচি জেলার আঙ্গারা এলাকায়। সোমবার ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে ধৃতদের মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল রাতে গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ বালিয়াডাঙ্গা-গোলাপগঞ্জ রাজ্য সড়কে একটি অভিযান চালায়। পুলিশের কাছে খবর ছিল, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে একটি গাড়ি করে কয়েকজন পাচারকারী গোলাপগঞ্জ এলাকায় মাদক বিক্রি করার জন্য আসছে।

খবর পেয়ে পুলিশ রাজ্য সড়ক এলাকায় ওত পেতে বসে থাকে। কালো রঙের একটি গাড়ি আসতেই আটকানো হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু কেজি ৬০০ গ্রাম পোস্ত ফলের আঠা বা আফিম উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।

পোস্ত ফলের আঠা থেকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় ব্রাউন সুগার। কয়েক বছর আগে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পোস্ত চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর থেকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলে পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায় পোস্ত চাষ। কিন্তু মাদক কারবারিরা দমে যায়নি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আঠা সংগ্রহ করে ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ চালিয়ে গিয়েছে। মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অসম প্রভৃতি জায়গা থেকে এই কাঁচামাল আমদানি করে এই ব্যবসা এখনও চলছে বলে পুলিশের ধারণা।

ধৃত ৪ জন রাঁচির ঝাড়খণ্ডের মাদক কারবারি এই আঠাগুলি ব্রাউন সুগার তৈরি করার জন্য এলাকার পাচারকারীর হাতে তুলে দিতে আসে। কিন্তু পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের মধ্যে ১২৮ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলাজুড়ে প্রায় ৯৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিনের পাচারকারীরা একটি বিজেপির প্রতীক সাঁটা গাড়ি নিয়ে ধরা পড়ে। আর এই নিয়ে  রাজনৈতিক মহলে তরজা শুরু হয়েছে।

ব্লক তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গাড়িটি ঝাড়খণ্ডের এক বিজেপি নেতার ও বিজেপি নেতার মদতেই মাদক পাচারের কাজ চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ধৃত ৪ জনের মধ্যে বিজেপি নেতার এক ভাইও রয়েছে। ফলে বিজেপির মদতেই যে মাদকপাচার চলছে এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বলে তৃণমূলের দাবি।

যদিও মালদা জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। ওই গাড়ি ঠিক কোনও বিজেপি নেতার নয় বলে তারা দাবি করেছেন। তবে ওই গাড়ির সামনের নম্বর প্লেট বিজেপির প্রতীক সাঁটা রয়েছে। পুলিশ এই বিষয়ে কিছু না বললেও রাজনৈতিক দলই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস বলেন, পোস্ত ফলের আঠা সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক পাচারকারীদের সকলের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায়। ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশি হেপাজত চেয়ে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির ওসি রামচন্দ্র সাহা বলেন, রবিবার রাতে বালিয়াডাঙ্গা ও গোলাপগঞ্জ রাজ্য সড়কে কালো রঙের একটি গাড়ি আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু কেজি ৬০০ গ্রাম পোস্ত ফলের আঠা আফিম উদ্ধার হয়। ওই গাড়িটি ও মাদকগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।