বিরোধীদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের

246

কালচিনি: করোনা সংক্রমণ রোধে বিরোদি রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে দিচ্ছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কাজ না করতে দেওয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ বিষয়ক কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই অভিযোগ করেন কালচিনির বিজেপি বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি।

কালচিনি বিজেপির ৮ নম্বর মন্ডল কার্যালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি বিধায়ক বলেন, শুক্রবার কালচিনির বিডিও করোনা ভাইরস সংক্রমণ নিয়ে বৈঠক করেছেন।কিন্তু সেই বৈঠকে স্থানীয় কোনও বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়নি। এমনকি করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় কী কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়। সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ টাকার খরচ নিয়ে কোনও তথ্য বিরোধীদের দেওয়া হয় না। যদিও কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাল্টা বিডিও-র অভিযোগ, গত চার মাসে করোনা সংক্রমণ রোধে স্থানীয় বিজেপির বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধিরা ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কোনও প্রকার যোগাযোগ করেনি।

- Advertisement -

বিধায়কের মতে, যে কোনও জনসচেতনতা বা সরকারি কাজে তথা জনসাধারণের কাজে রাজনৈতিক রং না দেখে সব জনপ্রতিনিধিদের সামিল হতে দেওয়া উচিত। কিন্তু শাসকদল তৃণমূলের তরফে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোনও কাজ করতে দেওয়া হয় না। বিরোধীদের কার্যত একঘরে করে রাখা হয়েছে। এরফলে, বিরোধীরা কোনও ভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে পোঁছাতে পারছে না বলে অভিযোগ। এ রকম অসহযোগিতামূলক আচারণ বেশিদিন সহ্য করা হবে না বলেও বিজেপির তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিডিও-র মতো স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন কালচিনি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রভাত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন বিরোধী দল নেতার অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন। কোন কোন এলাকার উন্নয়নে কত টাকা খরচ হবে তা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে বিরোধী জন প্রতিনিধিরাও ছিলেন। একাধিক প্রকল্পের খরচের সম্পূর্ণ হিসাব রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি স্বচ্ছ ভাবেই উন্নয়নের কাজ করছে।

কালচিনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসীম মজুমদার বলেন, করোনা সংক্রমণের পর চার মাস বিজেপির বিধায়কের দেখা পাননি ব্লকবাসী। এখন রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের চেষ্টা শুরু করেছেন। করোনা মোকাবিলায় তিনি যদি জনপ্রতিনিধি হিসাবেও ময়দানে নামতেন, তাহলে তাঁর কাজে বাঁধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, আমি ব্লকের এক্সিকিউটিভ অফিসার হয়ে নয় বিডিও হিসেবে করোনা সংক্রমণ রোধে শুক্রবার অনলাইনে বৈঠক করেছি। অনলাইন বৈঠকে তিনি কার সঙ্গে কথা বলবেন তা সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্ত।