দেশ আছে সেনার পাশে, মোদির সফরের সমর্থনে বিরোধীরা

259

কলকাতা: লাদাখে হঠাৎই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে দেখা দিল বিরূপ প্রতিক্রিয়া। বিজেপি ও কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ভালো চোখে দেখা হলেও সিপিএম অবশ্য মৃদু কটুক্তি করতেও ছাড়েনি।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কংগ্রেস তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী জানান, এদিন প্রধানমন্ত্রী লাদাখে গিয়ে সেনাবাহিনীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁদের কাছে ভালোই লাগছে। এতদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাত’ নিয়ে মাতামাতি করলেও লাদাখ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। আর আজকে তিনি সেখানে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ল। তবে অধীরবাবু বলেন, ‘শুধু সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়ালেই চলবে না । চীনের আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে হবে। আর সেই পথেই সেনাবাহিনীরকে এগিয়ে যাবার নির্দেশ দেওয়া উচিত।’

- Advertisement -

সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কিছুটা হলেও কটূক্তি করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গারওয়ালে যাননি। তিনি গেছেন নিমুতে। নিমু একটা টুরিস্ট স্পট। সেখানেই যাওয়াটা ভালো। তবে গারওয়ালে গেলে আরও ভালো হত। কিন্তু নিরাপত্তাব্যবস্থার খাতিরে তিনি হয়তো সেখানে যাননি।’ তবে দেশ যে সেনাবাহিনী পাশে আছে সেটা জানান দিতেই প্রধানমন্ত্রীর ওই সফর বলেই মনে করেন তিনি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সর্বদাই জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য তাদের পাশেই থাকেন। এরাজ্যে আমপানের ঘটনার পরপরই তিনি রাজ্যে এসে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। আর সেই প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে সেনাদের পাশে থাকবেন না এটা ভাবাও দুষ্কর।’ তাঁর মতে, এদিন প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ সফর হল ‘বোল্ড স্টেপ’। শুধু তাই নয়, এই সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।

দিলীপবাবু বলেন, ‘বর্তমান ভারত যে অতীতের ভারত নয় তা আবার প্রমাণ করলেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি এদিন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সমালোচনা করে বলেন, ‘অতীতে জহরলাল নেহেরুর কাজের জন্যই চীনের হাতে মার খেতে হয়েছিল। বর্তমানে যে সেটা হবে না তাই বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে এটাই হল আত্মনির্ভর ভারতের একটা নমুনা।’