মন্ত্রীর ‘খেলা হবে’কে কটাক্ষ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর

114

রায়গঞ্জ: ‘খেলা হবে’। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী নিয়ে খেলা হবে। রবিবার রায়গঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে এসে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ঠিক এই কথাই বললেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি। তিনি আরও বলেন, ‘যারা যারা তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাদের সাথেও খেলা হবে।‘ শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তিনি বলেন, ‘ওরা এবং ওরা ছাড়া আরও যারা তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাদের সবাই হারবে। বিজেপির লোক বিজেপিকে মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু আমাদের তৃনমূল দলে এসব নেই। আমাদের দলের একজনই সব। তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমরা সকলে লড়ে এবার দুইশোর উপরে আসনে জয়ী হবে তৃনমূল কংগ্রেস দল বলে জানান তিনি।

এদিন দুপুর একটায় ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে দলের জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালা, রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস, জেলা যুব সভাপতি গৌতম পাল, মহিলা তৃণমূলের জেলা সভাপতি পুস্পা মজুমদার প্রমুখ। দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালা বলেন, ‘গতকাল দলের রাজ্য দপ্তরে বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় স্লোগানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে আজ জেলায় এই স্লোগানের উদ্বোধন করা হল। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই স্লোগান আমরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিব। আগামী নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।‘

- Advertisement -

মহিলা তৃণমূলের জেলা সভাপতি পুস্পা মজুমদার বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন অগ্নিকন্যা। তিনিই হবেন আমাদের আগামী মুখ্যমন্ত্রী। বাইরের থেকে কেউ এসে যদি মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসতে যান সেটা তো আমরা কেউ মেনে নেবো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মেয়েকে পেয়ে বাংলার সবাই গর্বিত।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। রায়গঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিগত দশ বছরে তৃনমূল সরকার রাজ্যে গঠনমূলক কোনো কাজই করেনি। এখন খেলা হবে মানে তৃণমূলের সাথে বিজেপির খেলা হবে। আজকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই গিয়েছে। এটাই হল আসল খেলা। মানুষকে কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, খাদ্যসাথী ইত্যাদি ললিপপ দিয়ে ভোলানো যাবে না। রাজ্যে কোনো কর্মসংস্থান নেই। ২০১৪ সালে শেষ বারের মতো এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। ভালো ভালো ছেলেমেয়েরা বর্তমান তৃনমূল সরকারের কাছে বঞ্চিত হয়ে কেউ সব্জি বিক্রি করছে আবার কেউ টিউশনি করছে। পশ্চিমবঙ্গে বিগত দিনে কোনো সরকারের আমলে এমনটা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যুব সমাজ তৃনমূল ও বিজেপির কাউকেই ভোট দেবে না।‘ তারা বাম-কংগ্রেস জোটকেই ভোট দেবেন বলে জানান মোহিতবাবু।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে খেলাও হবে, বদলও হবে, আবার বদলাও হবে। তৃণমূলের ‘ঘরের মেয়ে’কে কটাক্ষ করে বিশ্বজিৎবাবু বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো আর মেয়ে নেই। তিনি মা হয়ে গিয়েছেন। ২০১১ সালে তো রাজ্যের মানুষ ঘরের মেয়েকেই এনেছিলেন। কিন্তু তিনি তো পিসি হয়ে গিয়েছেন। আর কারও কারও মা হয়ে তার সর্বনাশ করেছেন।‘ বিশ্বজিৎবাবু আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়কালে রাজ্য খুন, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হিংসা, গণতন্ত্রের হত্যার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রকল্পের নাম বদলে নিজের নামে চালিয়েছেন।‘ রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানিকে একহাত নিয়ে বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ’ গোলাম রব্বানি নিজের সিটে জিতবেন কিনা আগে সেটা দেখুন।‘ জেলা মহিলা তৃণমূলের সভাপতি পুস্পা মজুমদারকে কটাক্ষ করে বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘উনি রায়গঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলার হয়েও ওয়ার্ডে কোনো কাজ করেন না। পাড়ার লোকেরা ওনার উপর ক্ষুব্ধ। তিনি তার ওয়ার্ডের কোনো লোকের সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেন না। তাই তৃণমূলের মুখে এসব কথা মানায় না।‘ এদিন সাংবাদিক বৈঠকের পর তৃণমূলের একটি মিছিল শহরের সুপার মার্কেটে পথ পরিক্রমা করে।