প্রকাশ মিশ্র, মানিকচক : মথুরাপুরের শংকরটোলায় ভাঙন রোধের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে এবার সুর চড়ালো বামেরা। শনিবার ভাঙন রোধের কাজে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি ও বিধায়ক মোত্তাকিন আলম। একই অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রও। তবে সাবিত্রী মিত্রর উলটো সুর শোনা গিয়েছে মালদা জেলাপরিষদের সভাধিপতি গৌর মণ্ডলের গলায়। গৌরবাবু বলেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে। নতুন বাঁধ তৈরির সম্ভাবনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এনিয়ে সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা হচ্ছে বলে সভাধিপতি জানান। ত্রাণশিবিরে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।

এদিন ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে বামেদের প্রতিনিধিদল। উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র, রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফিরদৌস, জেলা কমিটির নেতা দেবজ্যোতি সিনহা, আরএসপি নেতা সর্বানন্দ পান্ডে প্রমুখ। তাঁরা দুর্গত মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন। ত্রাণশিবির ঘুরে দেখেন।  বামেরা অভিযোগ করে, সেচ দপ্তরের কাজ ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। পুরো টাকার কাজ হয়নি। কাজে দুর্নীতি হয়েছে। বামেরা কাজের দুর্নীতির তদন্ত দাবি করেছে। সেচ দপ্তরের বিশেষজ্ঞ বাস্তুকার দিয়ে এমন ভয়াবহ ভাঙন হওয়ার কারণ খোঁজারও দাবি তুলেছেন। নতুন বাঁধ হলে লোকালয়কে বাঁচিয়ে কীভাবে করা যাবে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বামেরা। এছাড়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে পূর্তদপ্তর বাঁধ সংলগ্ন সেতুর পিলার করতে গিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে মাটি, পাথর তুলে নিয়ে গর্ত তৈরি করে ফেলে। সেই গর্ত ঠিকঠাক ভরাট করা হয়নি। ফলে তলদেশে ভাঙন হয়েছে। গত শুক্রবারের ভাঙন তারই একটি নমুনা মাত্র। গ্রামবাসীরা ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য সেতু নির্মাণকারী সংস্থা এবং কাজের বিরোধ করেছিলেন। উলটে অভিযোগকারী চার গ্রামবাসীর নামেই সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এফআইআর করে পিডব্লিউডি দপ্তর। এদিন বামেদের তরফে শংকরটোলা এবং গোয়ালপাড়ার দুটি প্রাথমিক স্কুলে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের ত্রাণ সাহায্য দেওয়া হয়। অম্বর মিত্র জানান, ২৩টি পরিবারের হাতে এক বস্তা করে চাল ত্রাণ সাহায্য হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

জেলাপরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও মানিকচকের বিডিও সুরজিৎ পণ্ডিত রবিবার সকালে ভাঙন রোধের কাজ পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার প্রণবকুমার সামন্ত সহ অন্য আধিকারিকরা। গৌরবাবু জানান, এখানে আগে যে ভাঙন রোধের কাজ হয়েছে, তা ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল কারণে এবং নদীর তলদেশে ব্যাপক স্রোত থাকায় নীচের মাটি ক্ষয়ে গিয়েছে। তাই ওপর থেকে বিশাল এলাকা জুড়ে ধস নামছে। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এই কাজ চলবে। ফলে এখন আর ভাঙনের সম্ভাবনা নেই। ভালো কাজ হচ্ছে।  সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দফায় দফায় খোঁজ নিচ্ছেন। বিকল্প লিংক বাঁধের কথা ভাবা হচ্ছে। দুর্গত পরিবারগুলিকে দুটি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

এদিন ফের ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন বিধায়ক মোত্তাকিন আলমও। তিনি বলেন, সেচ দপ্তরের আড়াই কোটির ভাঙন রোধের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। তাছাড়া ভূতনি সেতুর নির্মাণকারী সংস্থা ও তদারকি সংস্থা সমানভাবে দাযী। তারা ত্রুটিপূর্ণভাবে বাঁধের গোড়ায় সেতুর পিলার নির্মাণ করে বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু বাঁধকে পুনরায় শক্ত করার জন্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তিনিও এদিন ত্রাণশিবিরে দুর্গতদের হাতে জামাকাপড় দেন। মালদা সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার প্রণবকুমার সামন্ত বলেন, ২৪ ঘণ্টা কাজ হচ্ছে। রাতে জেনারেটর চালিয়ে কাজ হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অবশ্য বেনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।