মাথাভাঙ্গায় বর্জ্য পোড়ানোকে ইশ্যু করছে বিরোধীরা

225

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে মাথাভাঙ্গায় বিরোধীদের প্রচারের অন্যতম ইশ্যু হচ্ছে আবর্জনার সমস্যা। পুরসভা গঠনের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও মাথাভাঙ্গা শহরে এখনও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট গড়ে ওঠেনি। বরং পরিবেশ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মানসাই ও সুটুঙ্গার সংযোগস্থলে চর এলাকায় ১৯৯০ সালে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করেছিল বাম পুরবোর্ড। আর তৃণমূল জমানায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় নদীর ধারে অবৈধ ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে উঠেছে।

টাউন কমিটি থেকে পুরসভায় উন্নীত হওযার সময় থেকেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ১৯৯০ সালে মাথাভাঙ্গায় প্রথম নির্বাচিত পুরবোর্ডের সময় থেকেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরিকাঠামো চালুর দাবি উঠেছিল। তত্কালীন বাম পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে সেসময় বিরোধীরা সলিড ওয়েস্ট  ম্যানেজমেন্ট চালুর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ বারে বারে তুলেছেন। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের  নির্বাচনের আগে পর্যন্ত প্রথমে কংগ্রেস ও পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন পুর নির্বাচনে এই দাবিকেই হাতিয়ার করেছে। ২০১৫ সালে মাথাভাঙ্গা পুরবোর্ডের ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৫ বছরে পুর এলাকায় সলিড ওয়েস্ট  ম্যানেজমেন্ট চালু তো হয়ইনি, উলটে বিভিন্ন জায়গায় নদীর ধারে অলিখিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় দূষণ বাড়ছে। মাঝেমধ্যেই জমে থাকা প্লাস্টিক ও আবর্জনা পোড়ানোর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ছে পুরসভা।

- Advertisement -

সলিড ওয়েস্ট  ম্যানেজমেন্ট চালু না হওয়ায় পুরসভার তরফে রোজ আবর্জনা সংগ্রহ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডে নদীর চরে ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মানসাই নদীর স্পার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিশু উদ্যান সংলগ্ন সুটুঙ্গা নদীর চরকেও অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে গড়ে তুলেছে মাথাভাঙ্গা পুরসভা। শনিমন্দির মোড় অটোচালক ইউনিয়নের সম্পাদক মকসেদুল হক বলেন, নিয়মিত এই এলাকায় আবর্জনা, মৃত পশু ও মাছবাজারের আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। পুরসভার যে কর্মীরা আবর্জনা ফেলতে আসেন, তাঁরাই বর্জ্যে আগুন ধরিয়ে দেন। ব্যবসাযী বাপ্পা সাহা বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর দুর্গন্ধে দোকানে বসে থাকা যায় না।

মাথাভাঙ্গা পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দিলীপকুমার মণ্ডল বলেন, প্লাস্টিক ও বর্জ্য পোড়ালে যে পরিবেশের ক্ষতি হয় এবং তার প্রভাব মানবশরীরে পড়ে- সেই সাধারণ জ্ঞানটুকুও পুরসভার নেই। বিষয়টি আসন্ন পুরভোটের নির্বাচনি প্রচারে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। সিপিএমের মাথাভাঙ্গা দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সম্পাদক মকসেদুল ইসলাম বলেন, বাম পুরবোর্ডের সময় বেশ কয়েকবার স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূলের বাধায় তা বাস্তবায়িত করা যায়নি। এখন প্লাস্টিক পুড়িয়ে শহরের বায়ু দূষিত করছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। নির্বাচনের প্রচারে আমরা বিষয়টি শহরবাসীর কাছে তুলে ধরব। কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, শুধু বর্জ্য পোড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, পরিবেশ বিষয়ক সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ পুরসভা। এসবের জবাব মানুষ ব্যালটেই দেবেন। মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, শহরের আবর্জনায় পুরসভার তরফে আগুন ধরিয়ে দেওযার অভিযোগ ঠিক নয়। কে বা কারা আগুন লাগাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।