অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে হাসপাতালের সুপার-ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজুর নির্দেশ আদালতের

585

বর্ধমান: অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যুতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার, ডেপুটি সুপার ও মেমারির নার্সিংহোমের এক চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বর্ধমান আদালতে মামলা করেন স্বামী। খুনের মামলা রুজু করে তার তদন্ত করার নির্দেশ বুধবার পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার ওসিকে দিলেন সিজেএম  রতনকুমার গুপ্তা। এই ঘটনার শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানের চিকিৎসক মহলে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাকারীর নাম কল্লোল ঘোষ। তাঁর বাড়ি দেওয়ানদিঘি থানার ঘোষপাড়ায়।কল্লোলবাবু এনডিআরএফ-র জওয়ান। বর্তমানে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের গন্টুরে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী সৌমি ঘোষ সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সৌমি অসুস্থতা বোধ করেন। তাঁকে প্রথম মেমারির নার্সিংহোমে নিয়ে যান পরিবার সদস্যরা। সেখানকার চিকিৎসক সৌমিদেবীকে একটি ইনজেকশন দেবার পর তাঁর অসুস্থতা বাড়ে। তখনই পরিবারের লোকজন বধূকে বর্ধমানের একটি বেসরকারী হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে নিয়ে যান। কিন্তু দুটির কোনওটিতেই সৌমিদেবীকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়ে কল্লোলবাবু এনডিআরএফএর  কমান্ড্যারকে সবিস্তার জানান।

- Advertisement -

কমান্ড্যান্ট বিষয়টি পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে জানান। এরপর জেলাশাসকের সুপারিশে কল্লোলবাবুর স্ত্রী সৌমিদেবীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। ভর্তির কিছু সময় পর সৌমি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মৃত্যুর পর সৌমির দেহের ময়নাতদন্ত না করিয়েই পরিবার পরিজনকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে দেন ডায়াবেটিসের কারণে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত না করিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিভাবে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর কারণ বলে দিল সেই প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী এনডিআরএফ কর্মী কল্লোল ঘোষ।

মামলাকারীর আইনজীবী রমেশ সিং বলেন, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত না করিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় ডায়াবেটিসের কারণে অন্তঃস্বত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, স্বাস্থ্য কমিশন ও জেলার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত খুনের মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

দেওয়ানদিঘি থানায় এক অফিসার এদিন বলেন, আদালতের এই নির্দেশের পত্র এখনও থানায় পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশ পেলে তা খতিয়ে দেখে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ কুণালকান্তি দে বলেন, মামলা মেমারি থানাতেও রুজু হয়েছে বলে শুনেছি। মৃতার পরিবারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট জমা দেবে। তার আগেই আমাদের বিরুদ্ধে এই ধরণের মামলা করা হল।