বাবা মা নেই,সুদীপ-সুদীপার পুজো কাটবে বাড়িতেই

423

শালকুমারহাট : পুজোয় এবার মন ভালো নেই বছর দশের সুদীপ ও সাত বছরের সুদীপা ওরাওঁয়ের। আলিপুরদুয়ারের শালকুমারহাটে ভাঙাচোরা বাড়িতেই পুজোর দিনগুলো কাটছে দুই ভাই-বোনের। ওদের বাবা বছর পাঁচেক আগে মারা গিয়েছেন। সম্প্রতি অসুখে মারা গিয়েছেন মা। মায়ের হাত ধরে গত বছরও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখেছে ওরা। কিন্তু এবার ঠাকুর দেখা তো দূরের কথা, ভাই-বোনের কানে ঢাকের আওয়াজও পৌঁছাচ্ছে না। ওদের দেখাশোনার জন্য পরিবারে থাকা একমাত্র বছর ৭৫-এর ঠাকুরদা ফাগু ওরাওঁ শারীরিক দুর্বলতার কারণে সেভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পুজোর আনন্দের থেকেও তাঁর কাছে এখন কঠিন লড়াই হল এই ছেলে-মেয়ে দুটোকে মানুষ করা। উপার্জনের ক্ষমতা নেই তাঁর। তাই ভাই বোন দু-বেলা ভাতও খেতে পারছে না। এই সুযোগে ওই পরিবারের দূরের পরিজনদের কেউ কেউ সুদীপ-সুদীপাকে বাইরে কাজে পাঠানোর মতলবও করছে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিডিও শ্রেয়সী ঘোষ বলেন,’ওই দুই ভাই বোনের কথা আমিও শুনেছি। বিষয়টি আলিপুরদুয়ার চাইল্ড লাইনকে জানানো হয়েছে।’

শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কলাবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি ওই ভাই বোনের। অনেক আগে দেওয়া সরকারি ঘরটির জীর্ণদশা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওদের মা লক্ষ্মীমণি ওরাওঁ মারা যান। বাবা বান্ধান ওরাওঁ মারা গিয়েছেন ৫ বছর আগে। বাবা মাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়েছে দুই শিশু। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,দিনমজুরি করেই সংসার চালাতেন লক্ষ্মীমণি। বয়সের ভারে ওদের ঠাকুরদা কোনো কাজ করতে পারেন না। সুদীপ স্থানীয় কলাবাড়িয়া এমএসকে স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু নিয়মিত স্কুলে যায় না। পারিবারিক অনটনের কারনে সুদীপা প্রাইমারি স্কুলেও ভরতি হয়নি। এখন দুই ভাই বোনের কীভাবে দিন কাটবে তা ভেবেই চিন্তায় পড়েছেন ঠাকুরদা ফাগু ওরাওঁ। বৃদ্ধ বলেন, ‘ওদের মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় এক দু-বেলা বাচ্চা দুটো খেতে পারছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে। ওদের মানুষ করার ক্ষমতা আমার নেই।’ এই বৃদ্ধও ভাবছেন দুই ভাই-বোনকে বাইরে কাজে পাঠাবেন। তিনি জানান, এছাড়া তো আর অন্য রাস্তা নেই। এজন্য দূরের কয়েকজন আত্মীয় যোগাযোগ করছে।

- Advertisement -

বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাড়িতে যান শালকুমারহাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধর কানাই লাল দাস। কানাইবাবু বলেন, ‘ অভাব অনটনের সুযোগে কাজের টোপ দিয়ে দুই ভাই-বোনকে পাচার করার চেষ্টা চলছে। এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি প্রশাসনকে জানাচ্ছি।’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মুকুল রায় বলেন, ‘আমিও ওই বাড়িতে গিয়েছি। বাচ্চা দুটোকে নতুন জামা কাপড়ও দেওয়া হয়েছে। ওদের যাতে কোনো বিপদ না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে পুজোর সময় এবার মা না থাকায় ভীষনভাবে মন খারাপ সুদীপ ও সুদীপার। দুজনই জানাল, প্রতিবার মায়ের হাত ধরেই মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা দেখতে যাই। দশমী মেলায় যাই। এবার সেটা হচ্ছে না। বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে।

তথ্য-সুভাষ বর্মন