বাবা-মাকে হারিয়ে অসহায় তিন আদিবাসী ভাইবোন

349

কুশমণ্ডি : এক মাস আগে মারা গিয়েছেন বাবা। ঠিক তাঁর শোক ভোলার আগেই মাসের শেষে মারা গেলেন মাও। বাবা গুলু টুডু ও মা তালামই মুর্মুকে হারিয়ে করুণ অবস্থা তিন ভাইবোনের। এদিকে, প্রাথমিক চাহিদা ও খাবারের পাশাপাশি বন্ধ হতে চলেছে তাদের পড়াশোনাও। ওই আদিবাসী পরিবারের বাড়ি কুশমণ্ডি ব্লকের ৬ নম্বর বেড়াইল পঞ্চায়েতের রানিপুর গ্রামে।

দীর্ঘ অসুখে ভোগার পর গত মাসে মারা যান গুলু টুডু। ছোট ছেলেমেয়েরা বাবা মারা যাওয়ার দুঃখে যখন জর্জরিত তার তিন সপ্তাহের মধ্যেই মারা গেলেন মা। কিছুদিন কাটতেই পেটের জ্বালা কমাতে সংসারের হাল ধরতে হয় ১৪ বছরের বড় ছেলে সালকে টুডুকে। আদিবাসী কল্যাণমঞ্চের সভাপতি বুধন হেমরম বলেন, ‘গুলু টুডু মারা যাবার এক মাসের মধ্যে মারা যান তাঁর স্ত্রী তালামই মুর্মুও। পরিবারের উপার্জনশীল দুইজন মানুষ চলে যাওয়ায় এখন তাঁদের তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছে। গুলুবাবুর বড় ছেলে সালকে টুডু (১৪), ছোট ছেলে সনাতন টুডু (৮) ও মেয়েদে সনতনি টুডু (১০)। জমি জায়গাহীন ওই তিন ভাইবোনের দুবেলা খাবার জোগাড় করাটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

- Advertisement -

১৪ বছরের সালকে টুডু বাবার হাত ধরেই পরের জমিতে কাজ শিখলেও মাঠে ধান লাগাবার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। পরপর বাবা ও মা দুইজনের মৃত্যু তিন ভাইবোন কাছে সবকিছু যেন এলোমেলো করে দিয়েছে। বাবা-মায়ে নামে রেশন  কার্ড ছিল কিনা তা এখনও খোঁজ করে দেখেনি ওরা। সকাল হলেই সালকে বেরিয়ে যায় কাজের খোঁজে। সারাদিন শেষে ঘরে ফেরে চাল নিয়ে। দশ বছরের সনাতনি সেই চাল ধুয়ে ভাত বসায় উনুনে। রান্নার খড়ি জোগাড় করে আনে সনাতন। এক মাস আগে ওই পরিবারের সন্ধ্যার ছবিটা ছিল অন্যরকম। ছোট্ট কুপির আলোয় তিন ভাইবোন বই খুলে বসত। মা তালামই মুর্মু বলতেন, মন লাগাও কাতে পাড়হাওমে (পড়াশোনায় মন লাগাও)। এখন সেই কথা আর বলার লোক নেই।

বুধন হেমরম বলেন, ‘ওদের জন্য স্কুলের দরজা খোলা থাকবে, কিন্তু ওরা আর শেষ পর্যন্ত স্কুলে পৌঁছতে পারবে কিনা সন্দেহ।’ এদিকে, সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হয়েছে নতুন করে সম্পূর্ণ লকডাউন। প্রকৃতির নিয়মে আপাতত শেষ হয়েছে মাঠের কাজ। আর শহরের কাজ বন্ধ হয়েছে প্রশাসনের নির্দেশে। এই পরিস্থিতিতে কোথায় দাঁড়াবে ওই তিন ভাইবোন প্রশ্ন এখন একটাই। বেড়াইল পঞ্চায়েতের প্রধান রিংকি দেবশর্মা জানান, এমন অবস্থার কথা তাঁকে কেউ জানায়নি। তাঁদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিডিও শৈপা লামা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দ্রুত ওদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ওই তিন ভাইবোনের খাবারের কোনও অসুবিধা হবে না। লোক পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হবে ওদের রেশন কার্ড আছে কিনা। যদি কার্ড না থাকে তবে বিশেষ কুপন দিয়ে স্থানীয় রেশন দোকান থেকে চাল, আটা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

ছবি- অনাথ তিন ভাইবোন

তথ্য ও ছবি-সৌরভ রায়