দিনহাটা হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগ বন্ধ হল

কৌশিক সরকার, দিনহাটা : প্রায় এক বছর ধরে রাতে সিজার বন্ধ। ব্লাড ব্যাংকে শুরু থেকেই স্থায়ী চিকিৎসক নেই। একের পর এক চিকিৎসক হাসপাতাল ছাড়ছেন। এবার দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের অস্থিরোগ সংক্রান্ত বিভাগও বন্ধ হয়ে গেল। গোটা মহকুমায় বর্তমানে কোনও অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। এই পরিস্থিতিতে মহকুমায় কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে আহতদের চিকিৎসা কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, গোটা রাজ্যে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরি করছে। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের বিষয়টি নিয়ে ফের রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনে যোগায়োগ করা হবে। মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ রণজি‌ মণ্ডল জানান, এই হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিত্সক পদ ৬২টি। কিন্তু চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৬ জন।

বিকল্প ব্যবস্থা না করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল থেকে কর্মরত চিকিৎসকদের এভাবে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। একজন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ মোট পাঁচজন চিকিৎককে সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক গত ২০ জুন হাসপাতাল ছেড়েছেন। ফলে হাসপাতালে গত বুধবার ও এদিন শুক্রবার অর্থোপেডিক-এর বহির্বিভাগ খোলেনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিভাগে ইন্ডোর ও আউটডোর পরিষেবা চালু ছিল। প্রতি বুধ এবং শুক্রবার আউটডোরে ৬০-৭০ জন রোগী আসতেন। ১০-১৫ জন রোগী ভর্তি থাকতেন। অর্থোপেডিক বিভাগে মাসে গড়ে ২০টির মতো অপারেশন হত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের একমাত্র চিকিৎসক গত ২০ জুন চলে যাওয়ায় পুরো বিভাগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় গোটা মহকুমার বাসিন্দাদের এই সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই ।

- Advertisement -

হাসপাতাল সূত্রে খবর, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি চোখ বিভাগের দুজন, সার্জারি, পেডিয়াট্রিক বিভাগের একজন করে চিকিৎসক ও একজন অ্যানাস্থেটিস্টও চলে গিয়েছেন। ফলে চিকিৎসকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেটিস্টের অভাবে প্রায় এক বছর ধরে সন্ধ্যা ৬টার পর সিজার হয় না। ফলে মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তঃসত্ত্বাদের কোচবিহার মেডিকেলে যেতে হয়।

হাসপাতাল সুপার বলেন, এই হাসপাতালে জেনারেল ডিউটি মেডিকেল অফিসারের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৩টি। কিন্তু বর্তমানে রয়েছেন মাত্র একজন। চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও বিভিন্ন কাজে লাগানো হচ্ছে। সাধ্যমতো পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এইসব বিষয় বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহে নজির তৈরি করেছে। ব্লাড ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসক পদ পাঁচটি। কিন্তু স্থাযী একজন চিকিৎসকও এখনও পর্যন্ত পাইনি।