কংগ্রেসের কাঠামো ভেঙে পড়েছে, বিস্ফোরক আজাদ

266

শ্রীনগর : কংগ্রেসের অন্দরে ফের বিদ্রোহের সুর। এবার দলের কাঠামোটাই ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মীরের এই নেতা বলেন, আমাদের দলের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। আমাদের নতুন করে এই কাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং কোনও নেতা নির্বাচন করার পরেই সেই নতুন কাঠামো কাজ করবে। তবে তিনি এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন, এমন নয় যে নেতা বদল করলেই আমরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে জিতে যেতাম। আমাদের পুরো ব্যবস্থাকে বদল করলেই সাফল্য আসা সম্ভব। গান্ধি পরিবারকে উদ্দেশ্য করে আজাদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য তাঁদের করার কিছু ছিল না। তাঁরা আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দেশে বিকল্প শক্তি হতে চাইলে ও দলকে উজ্জীবিত করতে হলে দলের নেতৃত্বে নির্বাচন জরুরি। দলের একাংশ নেতার বিলাসবহুল জীবন নিয়ে এদিন মুখ খুলেছেন আজাদ। তিনি বলেন, আমাদের নেতারা কেউ ভোটের টিকিট পেলেই প্রথমে পাঁচতারা হোটেলের ডিলাক্স ঘর ভাড়া করেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গাড়ি ছাড়া যাতায়াত করেন না, ভাঙা রাস্তা থাকলে সেই এলাকা এড়িয়ে চলেন। পাঁচতারা হোটেল থেকে ভোটে লড়া যায় না বলে দলের নেতাদেরই কটাক্ষ করেন আজাদ। কংগ্রেসের ব্যর্থতার জন্য নীচুস্তরের নেতাদের দায়ী করে আজাদ বলেন, কংগ্রেসের খারাপ ফল হলেই সোনিয়া বা রাহুল গান্ধিকে দোষ দেওয়া হয়। কিন্তু নীচুস্তরের নেতারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। ব্লক বা জেলাস্তরের নেতারা পদ পেয়ে তাঁরা লেটারপ্যাড আর ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে ফেলেন। ভাবেন তাঁদের কাজ শেষ। কিন্তু সেখান থেকেই তাঁদের কাজ শুরু।

কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্বে বদল চেয়ে সোনিয়া গান্ধিকে যে ২৩ জন নেতা চিঠি লিখেছিলেন তাঁর মধ্যে অন্যতম ছিলেন গুলাম নবি আজাদ। তবে তাঁর বক্তব্যকে কোনওভাবেই দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বলতে নারাজ আজাদ। তিনি বলেন, দলে কেউ বিদ্রোহী নয়। বিদ্রোহ মানে কাউকে সরিয়ে দেওয়া। বর্তমানে দলের সভাপতির পদে অন্য কোনও প্রার্থীই নেই। আমাদের বক্তব্যকে বিদ্রোহ না বলে সংস্কারের ডাক বলা উচিত। এর আগে দলের কোনও বিষয়ে আলোচনা করা যায় না বলে অভিযোগ করেছিলেন কপিল সিবাল। রবিবারই তার প্রতিবাদ করে দলে কোনও নেতৃত্বের সংকট নেই বলে জানিয়েছিলেন আরেক শীর্ষনেতা সলমন খুরশিদ। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, দলের ভিতরের কথা বারবার বাইরে বলা ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজাদের এই ধরনের মন্তব্য কংগ্রেসের অন্দরের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

- Advertisement -