শিলিগুড়ি, ৬ জুলাই : কদিন ধরে জঞ্জালের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে হাঁসফাঁস করছে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারণে গত কয়েকদিন থেকে জঞ্জাল ফেলা যাচ্ছে না। ডনবসকো রোডে রাস্তার ধারে জঞ্জাল ফেলার গাড়ি সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় যাতায়াত করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। আগের জঞ্জাল ডাম্পিং গ্রাউন্ডে না ফেলতে পারায় গত দুদিন থেকে শহরের জঞ্জাল অপসারণ পুরোপুরি বন্ধ। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই রাস্তার ধারে জঞ্জাল জমে থাকায়া নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের নিজস্ব ডোজারের সংখ্যা কম হওয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ভাড়া করা ডোজার দিয়ে কাজ চালানো হয়। ডোজার দিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জঞ্জাল না সরিয়ে দেওয়া হলে প্রতিদিন জঞ্জালের গাড়ি যে আবর্জনা সেখানে ফেলবে, তা ফেলা সম্ভব হয় না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ডোজার নিয়ে পুরনিগমের সঙ্গে ডোজার মালিকের সমস্যা হওয়ায় সেখানে ডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে শহর থেকে জঞ্জাল সংগ্রহ করলেও গত পরশু পর্যন্ত তা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা সম্ভব হয়নি। এদিন ডাম্পিং গ্রাউন্ডে গিয়ে দেখা যায়, জঞ্জাল না সরানোর ফলে সেখান থেকে জঞ্জাল উপচে পড়েছে রাস্তার উপর। বৃষ্টির জল, জঞ্জালের স্তূপ রাস্তার উপর জমে রীতিমতো নরককুণ্ডের চেহারা নিয়েছে।

সূত্রের খবর, ডোজার মালিকের প্রচুর টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই কারণেই তিনি ডোজার দিয়ে কাজ চালাতে চাইছেন না। পুরনিগম বলছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কাজ করা ডোজার খারাপ হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি। দুদিন ধরে কেন তার বিকল্প ব্যবস্থা করা হল না- প্রশ্ন তুলেছেন শহরের মানুষ। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জঞ্জাল ফেলতে না পারায় শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে জঞ্জালের স্তূপ জমে গিয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে মেয়রের ৬ নম্বর ওয়ার্ড, বিরোধী দলনেতার ২০ নম্বর ওয়ার্ড সহ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই জঞ্জাল জমে থাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওযার্ডে ৩ দিন ধরে জঞ্জাল পরিষ্কার হয়নি।

পুরনিগমের জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত বলেন, কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে জঞ্জাল সরানো যায়নি এটা ঠিক। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ডোজার নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছিল। আমরা সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি। শনিবার থেকে জঞ্জাল অপসারণের সমস্যা মিটে যাবে। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য যে ডোজার ভাড়া করা হয়েছিল তা নিয়মিত সেখানে কাজ চালাচ্ছিল না বলে অভিযোগ পেয়েছি। সেই কারণে আমরা শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থা করছি।