বিজেপির সঙ্গে মিম যোগ নিয়ে বিস্ফোরক সাক্ষী মহারাজ

199

কলকাতা :  বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজের মন্তব্যে বেকায়দায় পড়েছে রাজ্য বিজেপি। সাক্ষী মহারাজ যেভাবে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াইসি অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে তাঁদের সাহায্য করেছে তাতে এ রাজ্যের বিজেপি নেতারা বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছেন। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাক্ষীর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছড়ছেন না।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা মিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিজেপি লাভবান হবে বলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে এনডিএ জোটের ক্ষমতায় আসার পিছনে যে মিমের ভোট কাটাকাটির অঙ্ক, তা সবার কাছেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বিহারের নির্বাচনে ৫টি আসন পাওয়ার পরই তাই মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এরাজ্যের ভোটে অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সব বিজেপি বিরোধী দলই এই ভোট কাটাকাটির পেছনে বিজেপির হাত দেখতে পেয়েছিল। বিজেপি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে। এই ইস্যুতে বিজেপিকে ভয়ানক অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে তাদের দলের উন্নাওয়ের সাংসদ সাক্ষী মহারাজ। তিনি সৌরিখে দলের কর্মীদের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ওয়াইসিকে অনেক ধন্যবাদ। ভগবান ওঁকে শক্তি দিন, সহায় হন। উনি বিহারে আমাদের সাহায্য করেছিলেন। উত্তরপ্রদেশ ও বাংলার নির্বাচনেও সাহায্য করবেন। সাক্ষীর এই বক্তব্যে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওয়াইসি কোথায় সাহায্য করেছেন, কীভাবে সাহায্য করেছেন তা পরিষ্কারভাবে বলতে হবে। ওর সঙ্গে কি আমাদের জোট ছিল? উনি তো দিবারাত্রি আমাদের মুণ্ডপাত করছেন, গালিগালাজ করছেন। বিজেপি সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে। তাঁদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। মিমের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।

- Advertisement -

বিজেপি একথা বললেও সাক্ষী মহারাজ যে একটু খোলামেলা কথা বলেন, তা স্বীকার করেন তৃণমূলের মুখপাত্র বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, সাক্ষী বরাবরই খোলামেলা কথা বলে। তাই আসল কথা বলে ফেলেছে। আমরা তো আগেই বলেছিলাম, উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা এক হবে। আমরা বলেছিলাম, ওরা বিজেপিকে সাহায্য করার জন্যই এ রাজ্যে আসছে। অমিত শা-র সঙ্গে ওয়াইসির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপির টাকাতেই মিম চলে, এটা সবাই জানে। এজন্যই ওরা ভোটে দাঁড়ায়। এখানকার ভোটেও ওরা বিজেপিকে সাহায্য করবে। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির সঙ্গে মিমের সম্পর্ক কারও অজানা নয়। সবসময় ওরা ভোটে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সাহায্য করে। বিজেপি ভোটের স্বার্থে মানুষকে বিভাজন করে। আর বিভাজন করেই ভোটে ফায়দা লোটে। সাক্ষী স্বীকার করেছেন এই যা। কিন্তু এতে মানুষের লাভ কী? সাক্ষী মহারাজের বক্তব্য নিয়ে এখন রাজ্য বিজেপি বিশেষ কোনও মন্তব্যের মধ্যে যেতে চাইছে না কারণ তাতে এ রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে যেতে পারে।

কিছুদিন আগেই মিম প্রধান বাংলায় এসে সোজা ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে আলোচনা করেন। তারপর ঘোষণা করেন, এরাজ্যে আব্বাসের নেতৃত্বেই তাঁরা লড়বেন। বৃহস্পতিবার গুমাতে আহলে সুন্নাতুল জামাতের এক ধর্মীয় সভায় আব্বাস সিদ্দিকি ঘোষণা করেন, আমি কার সঙ্গে জোট করব সেটা আমার স্বাধীনতা। আমরা এই রাজ্যে ৫০টি আসন জেতার মতো জায়গায় আছি। ফুরফুরা শরিফের অনুগামী আড়াই কোটির মতো। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ আমার রাজনীতিতে প্রবেশকে সমর্থন করেছে। আর সেজন্যই তৃণমূল ভয় পেয়েছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। তবে ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি ওয়াইসিকে কটাক্ষ করে বলেন, এরাজ্যে লাইল্লা পাগলার জায়গা নেই। এ রাজ্যে উন্নয়নের পক্ষে ভোট হবে। সাম্প্রদায়িক মানুষজনকে রাজ্যের বাসিন্দারা জনবিচ্ছিন্ন করবেন। ভাইপো আব্বাস সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ও পাগল। আজ-কাল দল করব বলে যাচ্ছে। প্রতিদিন তারিখ বদলাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলার সম্প্রীতিকে নষ্ট করার জন্য সব ধর্মের গুরুদের নামানো হয়েছে। তার জন্য বহু কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। মরশুমি শিয়ালের কোনও দাম নেই। বরং আমি সব মরশুমের বাঘের সঙ্গে আছি।