বন্ধ অক্সিজেন প্ল্যান্ট খোলার দাবি মালিকপক্ষের

67

রায়গঞ্জ: ‌‌করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল দেশ। অক্সিজেনের হাহাকার দেখা দিয়েছে সর্বত্রই। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যপরিসেবা কেন্দ্রগুলিতে অক্সিজেনের আকাল পড়েছে। এমন অবস্থায় রায়গঞ্জে অবস্থিত উত্তর দিনাজপুর জেলার একমাত্র অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। তাদের দাবি, প্রশাসন অবিলম্বে ওই প্ল্যান্টটি চালু করার ব্যাপারে পদক্ষেপ করুক। তাহলে সমস্যা কিছুটা মিটবে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে প্ল্যান্টটি। প্ল্যান্টের মালিক পক্ষের দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বার্থে এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেনের প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যেই তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা না থাকার কারণে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বারবার ব্যাঘাত ঘটায় বাধ্য হয়ে প্ল্যান্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

মালিক পক্ষের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিক। রায়গঞ্জ শহর থেকে ৩ কিমি দূরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই অক্সিজেন তৈরির কারখানা অবস্থিত। ২৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় থেকে প্রয়োজনীয় চাপের মাধ্যমে শীতল পদ্ধতিতে অক্সিজেন উৎপাদন করা হত। প্রতিবার মেশিন চালু করার পর প্রথম উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু সেসময়কালের মধ্যে দু এক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়লেই বিপত্তি। পুনরায় মেশিন চালু করতে হয়। তাই এব্যাপারে বিদ্যুৎ কোম্পানিকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে বারবার বলেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে কারখানা চালু হওয়ার পরের বছরই বন্ধ হয়ে যায়।

- Advertisement -

মালিকপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মাসের ২২ তারিখে এমএসএমই টেক্সটাইল দপ্তরের তরফে প্ল্যান্টের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৬ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে ফোন করা হয়েছিল। যার জেরে ফের কারখানা চালুর ব্যাপারে আশায় বুক বাঁধছে মালিকপক্ষ। কারখানার মালিক বলেন, ‘আমাদের ওই কারখানা সারাদিন চালু থাকলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকঠাক থাকলে প্রতিদিন ২৮৮০ কিউবিক মিটার অক্সিজেন উৎপাদন করতে সক্ষম। উত্তর দিনাজপুর জেলাতে শুধুমাত্র এখানে অক্সিজেন উৎপাদন হচ্ছে শুধু তাই নয় গোটা উত্তরবঙ্গের মধ্যে শুধুমাত্র গাজোল এবং শিলিগুড়িতে অক্সিজেন তৈরির প্ল্যান্ট রয়েছে। সেকারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্ল্যান্ট চালু করা অত্যন্ত প্রয়োজন।’

রায়গঞ্জের শহর এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে এই কারখানা থেকে অক্সিজেন তৈরির বিষয়টি আমরা জানতে পারি। প্রাথমিকভাবে সেকাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীকালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন ওই কারখানা চত্বর জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। মেশিনপত্র নোংরা জমেছে। আরও কয়েক বছরে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলে গোটা কারখানাটি অকেজো হয়ে পড়বে তাই আমরাও চাই অবিলম্বে ওই কারখানাটি চালু হোক ওই কারখানা চালু হলে স্থানীয় মানুষদের কর্মসংস্থান হবে।