পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে বাস পাঠাচ্ছেন মালিকরা

187

ইসলামপুর: ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য থেকে বাস পাঠাচ্ছে মালিকপক্ষ। শ্রমিকদের কার্যত জামাই আদর করে ভিন রাজ্যে কাজে নিজে যাওয়া হচ্ছে।

গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া থেকে প্রায় প্রতিদিনই শ্রমিকদের বাসে করে কাজে নিয়ে যাচ্ছেন মালিকপক্ষ। আর তাতেই বেজায় চটেছেন রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা দেশে লকডাউন শুরু হতেই ভিন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের ঘরে ফেরার নূন্যতম ব্যবস্থাটুকু করা হয়নি। শ্রমিকদের জন্য মালিকপক্ষের বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখতে পাইনি। মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যত তারা সাড়া দেননি। অথচ আনলক শুরু হতেই সেই মালিকপক্ষ বাস পাঠিয়ে তাঁদের কাজে নিয়ে যাচ্ছে।’

- Advertisement -

জেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রায় ৪০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। বেসরকারি হিসেবে তা লক্ষাধিক। এলাকায় ১০০ দিনের কাজ থাকলেও সেখানে মজুরি কম হওয়ায় সেই কাজে তারা যোগ দিতে চাননি। তাঁরা জানান, ১০০ দিনের কাজে এখানে যা মজুরি তার থেকে দক্ষিণ ভারত কিংবা দিল্লি-উত্তরপ্রদেশে মজুরি সেই টাকার প্রায় আড়াই থেকে তিনগুন বেশি।

বছরখানেক আগে পরিযায়ী শ্রমিকরা দিল্লি, গুরগাঁও, চেন্নাই, কেরল, বেঙ্গালুরুতে কাজে গিয়ে লকডাউনে দুর্ভোগে পড়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। গোয়ালপোখরের শ্রমিকরা বলেন, ‘লকডাউন শুরু হতেই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরি। এখানে ১০০ দিনের কাজ থাকলেও মজুরি অনেক কম। আনলক শুরু হতেই কলকারখানা খুলে গিয়েছে। মালিকের পাঠানো বাসে কাজে ফিরে যাচ্ছি। এছাড়া মালিক অগ্রিম টাকাও পাঠিয়েছেন। ভিন রাজ্যের তুলনায় এখানের মজুরি অনেক কম। এখানে কাজ করলে সংসার চলবে কিভাবে।’

এই বিষয়ে ইসলামপুর মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার শেখ নৌসাদ আলি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে আমাদের কর্মীরা রয়েছেন। তাঁরা এই বিষয়ে কোনও রিপোর্ট আমাদের পাঠায়নি। এছাড়া শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার সময়ে আমাদের কিছু বলে যায় না। সেখানে গিয়ে সমস্যায় পড়লে তবেই আমরা জানতে পারি।’