রায়গঞ্জে রমরমা অক্সিজেনের কালোবাজারি, উদাসীন প্রশাসন

69

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচার হয়ে যাচ্ছে রায়গঞ্জ সীমান্তবর্তী বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। যে অক্সিজেন সিলিন্ডার রায়গঞ্জ আসছে তার একটা বড় অংশ বিভিন্ন চোরা পথে চলে যাচ্ছে বিহারে। ‌নির্ধারিত দামে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না রায়গঞ্জ শহর সহ উত্তর দিনাজপুর জেলায়। এক একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার পিছু দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় থাকলেও উদাসীন প্রশাসন। অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জে করোনা আক্রান্ত অনেক মানুষ যারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করছেন তাদের অক্সিজেন পেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে।

করোনার প্রকোপ বাড়তেই অক্সিজেনের কালোবাজারি শুরু হয়েছে রায়গঞ্জ সহ উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি নার্সিংহোমগুলোতে অক্সিজেন নেই বলে চড়া দামে সাপ্লাই দিচ্ছে একশ্রেণীর চক্র। যে সিলিন্ডারের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা সেই সিলিন্ডারই এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের রেগুলেটরের যে সেটের দাম ছিল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এখন দাম হয়েছে ২০০০ টাকা। নতুন কোন সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা আবহের মধ্যে মানুষ যখন দিশেহারা তখন অসহায় মানুষকে আরও বেশি করে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে একশ্রেণীর কারবারি। অভিযোগ, মূলত বিহার সীমান্ত সংলগ্ন আবাদপুর, দাসপাড়া, বারসই সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশাহার ঘাট, গোরাহার ঘাট, বাহিন ঘাট, বারিওল ঘাট দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। বিহার থেকে বহু মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসছেন এবং তাদের কাছে টাকা-পয়সার লুটছেন একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। যদিও এই বিষয়ে নজরদারি নেই বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর আত্মীয়রা।

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুর জেলার নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরীর অভিযোগ, শহর তথা জেলার মানুষ নতুন কোনও অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছে না। মানুষকে বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে নজরদারি দিতে হবে।

অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) অলঙ্কৃতা পান্ডে বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। হাসপাতালে যারা ভর্তি হবেন ক্রিটিক্যাল থাকলে অবশ্যই অক্সিজেন পাবেন। যদি এই ধরনের কালোবাজারির ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রায়গঞ্জ শহরের অশোকপল্লী এলাকায় এক গ্যাসের প্লান্টের ম্যানেজার সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘নতুন সিলিন্ডারের ক্রাইসিস রয়েছে। যারা সিলিন্ডার নিয়ে আসে তাদের নির্ধারিত মূল্যে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার দেওয়া হয়। বেশি টাকা নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।‘