অপারেশন থিয়েটারে অক্সিজেন সিলিন্ডার ফেটে গুরুতর জখম রোগী,বিক্ষোভ

403

রায়গঞ্জ: অপারেশন থিয়েটারে অক্সিজেন সিলিন্ডার ফেটে গুরুতর জখম হলেন এক প্রসূতি। বুধবার বিকালে রায়গঞ্জের এক বেসরকারি নার্সিংহোমের ঘটনা। এই ঘটনায় রোগীর পরিজন সহ স্থানীয়রা ওই নার্সিং হোমের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আতঙ্কে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী, কর্মেত ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরা নার্সিং হোম ছেড়ে চলে যান। খবর্ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। রোগীদেরও আশ্বস্ত করা হয় পুলিশের তরফে।

ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, আক্রান্ত প্রসূতিকে সংকটজনক অবস্থায় মঙ্গলবার নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকালে সিজারের মাধ্যমে তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু, কিছুক্ষণের মধ্যে সদস্যজাতর মৃত্যু হয়। ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মালদা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছিল। অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে কোনও অক্সিজেন সিলিন্ডার ফাটেনি।

- Advertisement -

যদিও রোগীর পরিবারের দাবি, স্ত্রী রোগের চিকিৎসক টি.কে. ঘোষের অধীনে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বুধবার দুপুরে প্রসব বেদনা বেড়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার করা হয়। সেই সময় আচমকাই অক্সিজেন সিলিন্ডার ফাটে। তারপরেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। রোগীর পরিবারকে না জানিয়ে, মহিলাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নার্সিংহোমের বাইরে নিয়ে যায় স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারপর নিয়ে যাওয়া হয়, মালদা মেডিকেল কলেজে।

প্রসূতির বাবা দিলীপ রায় বলেন, অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন করার সময় বিকট শব্দ হয়। এর পরেই দেখি কয়েকজন নার্স রক্তাক্ত অবস্থায় বাইরে বেরিয়ে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরাই আমার মেয়েকে অন্য গেট দিয়ে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর ব্যবস্থা করে। এরপরই আমরা বুঝতে পারি আমাদের মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আপনার মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সদ্যোজাত মারা গিয়েছে।

দিলিপ বাবু আরও বলেন, সদ্যজাতর মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছতেই পরিবার-পরিজনেরা নার্সিংহোমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সেই সময় নার্সিংহোমের পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যায় চিকিৎসক টি.কে.ঘোষ। উত্তেজনা তীব্র আকার নিলে পুলিশ এসে আশঙ্কাজনক ওই প্রসূতিকে উদ্ধার করে পাশের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় বলে দাবি রায়ের।

নার্সিং হোম সূত্রে খবর, বর্তমানে ওই প্রসূতি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। যদিও প্রসূতির পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়ে আর বেঁচে নেই। এ খবর লেখা পর্যন্ত এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। যদিও ওই প্রসূতি কেমন রয়েছে তা জানানো হয়নি পরিবারকে। পুলিশ সূত্রের দাবি, উত্তেজনা না কমা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।