যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলিংয়ের কাজ চলছে গৌড়বঙ্গে

68

গাজোল: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে নাজেহাল অবস্থা দেশের। দিনের পর দিন গোটা দেশে ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দেশ জুড়ে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যু হচ্ছে করোনা রোগীদের। ইতিমধ্যে, গৌড়বঙ্গে অক্সিজেন পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে চলেছেন গৌড়বঙ্গের একমাত্র বেসরকারি অক্সিজেন বটলিং প্ল্যান্টের আধিকারিক ও কর্মীরা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিল্পক্ষেত্রের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের উৎপাদন।

এখন শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলিংয়ের কাজ চলছে দিন রাত জুড়ে। কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলি থেকে খালি সিলিন্ডার নিয়ে আসছে গাড়ি। দ্রুততার সঙ্গে সেই সিলিন্ডারগুলি নামিয়ে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার সেই গাড়িগুলোতে চাপিয়ে পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। বটলিং প্ল্যান্টে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন বটলিং প্ল্যান্টের কর্মীরা। তাদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন প্ল্যান্টের ম্যানেজারও। কোনওরকম ওভারটাইম ছাড়াই কর্মীরা কাজ করে চলেছেন। একের পর এক সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভর্তি করে তৈরি করে রাখা হচ্ছে।

- Advertisement -

বটলিং প্ল্যান্টের ম্যানেজার দীনেশ তিওয়ারি জানান, বর্তমানে সারা দেশে অক্সিজেনের সংকট চলছে। গৌড়বঙ্গে একমাত্র আমাদেরই অক্সিজেন বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। এখান থেকেই মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং উত্তর দিনাজপুরের সমস্ত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সাপ্লাই করা হয়। গাজোল ছাড়া আরেকটি বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে মুর্শিদাবাদে এবং আরেকটি রয়েছে শিলিগুড়িতে। এতদিন আমাদের এখানে শিল্পক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্য এই দুটি বিভাগের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার বটলিংয়ের কাজ চলত।

কিন্তু বর্তমানে আমরা শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। এখন শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার বটলিংয়ের কাজ চলছে। আমাদের ডিরেক্টরের কড়া নির্দেশ রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য যাতে নিয়মিতভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সাপ্লাই দেওয়া যায় তার জন্য সমস্তরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, আমরা সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আগে আমরা সাধারণত প্রতিদিন ২৫০টির মত সিলিন্ডার বটলিং করতাম। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪৫০-৫০০টি। যার ফলে কর্মীদেরও বাড়তি সময় কাজ করতে হচ্ছে।

দুর্গাপুরের বড় জোড়া অক্সিজেন ফ্যাক্টরি আইনক্স এয়ার থেকে অক্সিজেন ভর্তি কন্টেইনার নিয়ে এসেছেন অমিতাভ পাসোয়ান এবং পাপ্পু কুমার। তাঁরা জানান, ওই কারখানা থেকে গোটা দেশে অক্সিজেন সাপ্লাই করা হচ্ছে। তারাও দেশের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন ভর্তি কন্টেইনার নিয়ে যাচ্ছেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। সংগঠনের ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ জানান, অক্সিজেন সরবরাহে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য আমরা শ্রমিকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সমস্ত শ্রমিকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ভোটের দিনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে শ্রমিকেরা।