ইসলামপুরে অক্সিজেনের কালোবাজারি, মজুত হচ্ছে সিলিন্ডারও

348

ইসলামপুর : করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের মাঝে প্রাণদায়ী অক্সিজেনও গৃহস্থের মজুতের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। যার জেরে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সরবরাহে কৃত্রিম টান পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইসলামপুর শহরে। অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বক্তব্য, সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন না থাকলেও উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তদের একাংশের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুতের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে যে শুধু জোগানে টান পড়ছে তাই নয়, সিলিন্ডারের খরচও বাড়ছে।

শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল, নতুন সিলিন্ডার কিনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা ভর্তি করা। আবার অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে জন্য সিলিন্ডার ভাড়া নেন। দুই পদ্ধতিতেই আচমকা সিলিন্ডারের চাহিদা তরতরিয়ে বাড়তে শুরু করেছে বলে খবর। শহরের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি আগে সপ্তাহে দুএকটি ছোট সিলিন্ডার বিক্রি করতেন। এখন প্রতিদিন আটটি করে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীর কথায়, প্রয়োজন না থাকলেও অনেকে বাড়িতে চাল-ডাল-আলুর মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করছেন। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সিলিন্ডারের দাম বা ভাড়াও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাধারণত ১.৪৩ কিউবিক মিটার সিলিন্ডারের দাম পাঁচ হাজার টাকা। তাতে গ্যাস ভরতে ১৮০ টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে, ৭ কিউবিক মিটারের সিলিন্ডারের দাম দশ হাজার টাকা এবং রিফিল করার খরচ ৩০০ টাকা। এছাড়া ১২ শতাংশ জিএসটিও নেওয়া হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট সিলিন্ডার ভর্তির জন্য কেউ হাজার টাকা চাইছেন তো কেউ ১,৫০০ টাকা দর হাঁকছেন। অন্যদিকে, বড় সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে চাওয়া হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা।

- Advertisement -

শহরের এক অক্সিজেন সরবরাহকারী বলেন, শুধু সিলিন্ডার নিলেই তো হবে না। রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য যে ফ্লো মিটার প্রয়োজন, তারও তো জোগান নেই। সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন সরবরাহকারী একটি সংস্থা জানিয়েছে, ছোট সিলিন্ডার এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দাম মিলিয়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। বড় সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই খরচ এগারো থেকে তেরো হাজার টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই সংস্থার এক কর্তার দাওয়াই, প্রেসক্রিপশন ছাড়া বাড়িতে বা অফিসে অক্সিজেন সরবরাহের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েনের জেলা সভাপতি শ্রীকৃষ্ণ দাস বলেন, কোথায় এধরনের কাজ হচ্ছে তার সঠিক তথ্য পেলে, আমরা বিষয়টি দেখতে পারতাম। অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুরের জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলের এক আধিকারিক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।