রায়গঞ্জ থেকে বিহারে পাচার হচ্ছে অক্সিজেন

82

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ :  রায়গঞ্জ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচার হয়ে যাচ্ছে বিহারের বিভিন্ন জেলায়। ফলে অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারি শুরু হয়ে গিয়েছে। এক একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দ্বিগুণ, তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারিতে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় থাকলেও উদাসীন প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জে করোনা সংক্রামিতদের অক্সিজেন পেতে কালঘাম ছুটছে।

করোনার প্রকোপ বাড়তেই অক্সিজেনের কালোবাজারি শুরু হয়েছে রায়গঞ্জ সহ উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে। বিভিন্ন নার্সিংহোমগুলিতে অক্সিজেন নেই বলেই চড়া দামে সাপ্লাই দিচ্ছে একশ্রেণির চক্র। যে সিলিন্ডারের দাম ছিল আগে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেই সিলিন্ডারই এখন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের রেগুলেটর সেটের দাম ছিল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, এখন তার দাম হয়েছে ২০০০ টাকা। সিলিন্ডার সহ অক্সিজেন গ্যাসের দাম ছিল ৭০০০ টাকা সেই দাম বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।

- Advertisement -

অভিযোগ, মূলত বিহার সীমান্ত সংলগ্ন আবাদপুর, দাসপাড়া, বারসই সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশাহার ঘাট, গোরাহার ঘাট, বাহিন ঘাট, বারিওল ঘাট দিয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। এই জেলা লাগোয়া সীমান্ত রাজ্য হওয়ায় বিহার থেকে বহু মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসছেন। তাঁদের কাছে খেয়ালখুশি মতো টাকা লুটছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। রায়গঞ্জ শহরের কিছু নার্সিংহোম অক্সিজেনের নাম করে প্রচুর টাকা বিল করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরীর অভিযোগ, শহর তথা জেলার মানুষ নতুন কোনও অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছে না। যাদের পুরানো সিলিন্ডার রয়েছে তাঁরা অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার পাচ্ছেন। যদিও তার দাম দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ। মানুষকে বাধ্য হয়ে সেই দামে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জেলার বাসিন্দারা একাংশ জানেন না গ্যাস সিলিন্ডার কোথায় পাওয়া যায়! ফলে দালালের খপ্পরে পড়েছেন এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে নজরদারি দিতে হবে। অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) অলংকৃতা পান্ডে বলেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়। হাসপাতালে যারা ভর্তি হবেন, তাঁদের অবস্থা ক্রিটিক্যাল হলে অবশ্যই অক্সিজেন পাবেন। বিভিন্ন নার্সিংহোমও তার বাইরে নয়। যদি এই ধরনের কালোবাজারির ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ শহরের অশোকপল্লি এলাকায় এক গ্যাসের প্ল্যান্টের মালিক তাঁর বাড়ির গোডাউন থেকে অক্সিজেন বিক্রি করেন। তার নিজস্ব অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে। সেই প্ল্যান্টের ম্যানেজার সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সিলিন্ডারের ক্রাইসিস রয়েছে। যারা সিলিন্ডার নিয়ে আসে তাঁদের নির্ধারিত মূল্যে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার দেওয়া হয়। বেশি টাকা নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তবে রেগুলেটরের ক্রাইসিস রয়েছে।