রায়গঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অক্সিজেন পরিষেবা মেলে না

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই অক্সিজেন পরিষেবা, নেই জেনারেটরও। ফলে সামান্য কারণে রোগীদের রায়গঞ্জ মেডিকেলে রেফার করেন এখানকার চিকিৎসকরা। লোডশেডিং হলে মোমবাতি নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের পরিবারের লোকজন দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন।

নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলে থইথই করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। আরও অভিযোগ, এখানে নার্সিং স্টাফদের ব্যবহার খুবই খারাপ। স্থায়ী কোনও ফার্মাসিস্ট নেই। সবসময় চিকিৎসকের দেখা মেলে না। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরাই ইনজেকশন, স্যালাইন, সেলাই সহ যাবতীয় কাজ করেন। প্রতিবাদ করলে জোটে খারাপ ব্যবহার। যদিও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আলতামাজ আলি জানান, গ্রামের কয়েকজনকে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়নি বলে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেছি। পাইপলাইনের কাজ চলছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন পরিষেবা দেওয়া হবে। তবে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। কারণ, তার জন্য বিপুল খরচ। সেই খরচ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ইনভার্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

- Advertisement -

এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুজন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। একজন আবার বিডিএস। অবশ্য তিনজন ফিজিশিয়ান রয়েছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চেম্বারে গিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দেখা মেলেনি। যদিও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বিএমওএইচ আসবেন। গ্রামবাসী বরুণ সরকার জানান, এটা নামেই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে কোনও পরিষেবাই মেলে না। অক্সিজেন পরিষেবা নেই। জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিং হলে অন্ধকারে ভরে যায়। সবসময় চিকিৎসক থাকেন না। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহার খুবই খারাপ। কেউ সামান্য অসুস্থ হলে রায়গঞ্জে রেফার করা হয়। দয়ানন্দ মাহাতো নামে এক গ্রামবাসী জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমাহীন সমস্যা। নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা মানুষকে মানুষ বলে মনে করেন না। ডাক্তার, নার্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, কেউ সঠিক পরিষেবা দেন না। অক্সিজেন পরিষেবা আছে কি না জানি না। কারণ, সামান্য কিছু হলেই রোগীকে রায়গঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আলতামাজ আলি বলেন, আজ কুনোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছিলাম বলে মহারাজাহাটে যেতে পারিনি। কারণ, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে আমি রয়েছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অক্সিজেন পরিষেবা, ইনভার্টারের ব্যবস্থা করেছি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাই তাঁরা স্যালাইন, ইনজেকশন, সেলাই সহ একাধিক কাজ করতে পারেন। এতদিন নার্সিং স্টাফ কম থাকায় সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েকজন নতুন নার্স কাজে যোগ দেওয়ায় এখন সমস্যা নেই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ মিথ্যে।