সিরাজের গতির আলোয় মুগ্ধ হয়েছিলেন স্পটার জ্যোতি

826

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মরিয়া হয়ে ব্যাট চালিয়েছিলেন জোশ হ্যাজেলউড। ব্যাটের কানায় লেগে বল গেল থার্ডম্যানে শার্দূল ঠাকুরের নিরাপদ হাতে। আর তখনই হাত দুটোর সঙ্গে মাথাটা আকাশের দিকে তুলে কী যেন খুঁজলেন তিনি। কেরিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর প্রয়াত বাবা মহম্মদ ঘাউসকে কি দেখতে পেলেন মহম্মদ সিরাজ? কে জানে!

নিজামের শহরের টলি চৌকিতে তখন উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। চলছে মারফা নাচ। যা হায়দরাবাদি মুসলিমদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মহম্মদ সিরাজও এই নাচের স্কিলটা ভালোই জানেন। ছোট থেকেই ক্রিকেট ছিল তাঁর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানে হায়দরাবাদের টলি চৌকির গলিতে টেনিস বলে ক্রিকেট চর্চা করতেন সিরাজ। নির্দিষ্টভাবে ছিল না কোনও কোচও। এভাবেই বেশ কয়েক বছর চলার পর আচমকা হায়দরাবাদের প্রাক্তন ক্রিকেটার পি জ্যোতিপ্রসাদের চোখে পড়ে যান তিনি। টলি চৌকি থেকে নিজামের শহরের মূল ক্রিকেট স্রোতে তিনিই নিয়ে আসেন সিরাজকে। বাকিটা আজ ইতিহাস। প্রথম বছরে হায়দরাবাদ ক্লাব ক্রিকেটে নজর কাড়েন। ২০১৬-১৭ মরশুমে প্রথমবার হায়দরাবাদ রনজি ট্রফির দলে সুযোগ পেয়ে ৪০টি উইকেট নিয়ে সর্বভারতীয় ক্রিকেটে নজর কাড়েন তিনি। আজ দুপুরে হায়দরাবাদ থেকে তাঁকে প্রথম স্পট করা পি জ্যোতিপ্রসাদ উত্তরবঙ্গ সংবাদ-কে বলছিলেন, সিরাজের বলের গতি প্রথম দেখায় মুগ্ধ করেছিল আমায়। সেটা ছিল টেনিস বলের ক্রিকেট। পরে ওকে হায়দরাবাদের ক্লাব ক্রিকেটে সুযোগ করে দিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম, টেনিসের মতোই ডিউস বলেও সমান সাবলীল। জন্মগত প্রতিভার অধিকারী ও। দীর্ঘদিন থাকার জন্যই এসেছে ও।

- Advertisement -

ভারতীয় এ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কোচিং করাতে গিয়ে সিরাজকে খুব কাছ থেকে দেখা প্রাক্তন কোচ পরশ মামরে আজ বিকেলে বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে বলছিলেন, সিরাজ জন্মগত প্রতিভা। ওকে প্রথম দেখার পর জানতে চেয়েছিলাম, তোমার কোচ কে? জবাবে বলেছিল, আমার কোনও নির্দিষ্ট কোচ নেই। যখন যেখানে সুযোগ এসেছে, সেখান থেকেই শেখার চেষ্টা করেছি। সিরাজের বোলিং নিয়ে পরশ আরও বলছিলেন, বলে পেস ও বৈচিত্র‌্য, দুই রয়েছে ওর। ক্রিকেটার সিরাজের আসল ইউএসপি হল, ওর ইস্পাতকঠিন মানসিকতা। কখনও কোনও অবস্থাতেই ওকে চাপে পড়তে দেখিনি। আচমকা বাবা মারা যাওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়া সফরে যেভাবে ও নিজেকে মেলে ধরেছে, মানসিকভাবে কঠিন না হলে তা সম্ভব হত না। ওকে অভিনন্দন। দীর্ঘসময় ভারতীয় ক্রিকেটে থাকার জন্যই সিরাজ এসেছে বলেও জানাচ্ছেন পরশ। সিরাজের টলি চৌকি টু ব্রিসবেন রূপকথায় আরও একজন প্রবলভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। তিনি টিম ইন্ডিয়ার বোলিং কোচ ভরত অরুণ। ২০১৬-১৭ মরশুমে তাঁর কোচিংয়ে হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল সিরাজের। ভারতীয় দলে ভরতই এখন সিরাজের গাইড। অভিভাবকও বটে।