মেসিদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন আইমার-আয়ালাও

রিও : দেশের এক কিংবদন্তির চোখে ছিলেন, সুযোগ্য উত্তরসূরি। আরেক কিংবদন্তির কাছে ছোটবেলার নায়ক। কিন্তু ফুটবলার জীবনে দেশকে কোপা আর কনফেডারেশন কাপে রানার্স করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

অবশেষে রবিবার ভোরে রিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণ। লিওনেল মেসি-অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াদের সহকারী কোচ হিসেবে লাতিন আমেরিকান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেন পাবলো আইমার। চলতি শতকের প্রথম দিকে বিশ্ব ফুটবলে আবির্ভাবেই নজর কেড়েছিলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছিলেন, এ ছেলের হবে। সেই তালিকায় দিয়েগো মারাদোনা থেকে শুরু করে জোহান ক্রুয়েফের মতো কিংবদন্তিরা আছেন। মারাদোনা বলেছিলেন, আইমার আমার মতো। আর ক্রুয়েফ বার্সেলোনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সই করাও একে।

- Advertisement -

২০০১ সালে ভ্যালেন্সিয়ার জার্সিতে আইমারের প্রথম ম্যাচই ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। সেদিনের পারফরমেন্সে মুগ্ধ ক্রুয়েফ চেয়েছিলেন বার্সা দলে নিক তাঁকে। অবশ্য স্প্যানিশ ক্লাবটি সেই পরামর্শ শোনেনি। তবে তাতে আইমারকে আটকে রাখা যায়নি। ভ্যালেন্সিয়াকে দুবার লিগ দিয়েছেন, নিয়ে গিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালেও। উয়েফা কাপ, উয়েফা সুপার কাপও জিতেছেন। পরবর্তীতে বেনফিকার জার্সিতে নজর কাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হতে পারেননি আইমার।

এই দলের অন্য দুই সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা এবং ওয়াল্টার স্যামুয়েলও বিখ্যাত ডিফেন্ডার। আয়ালা খেলেছেন নাপোলি, এসি মিলান, ভ্যালেন্সিয়ার মতো ক্লাবে। জিতেছেন সিরি আ, লা লিগা, উয়েফা কাপ। ২০০৬ বিশ্বকাপের অল স্টার টিমে তাঁকে রেখেছিল ফিফা। অন্যদিকে, ওয়াল্টার ৯ মরশুমে ইন্টার মিলানের হয়ে সিরি আ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ ১৩ ট্রফি পেয়েছেন। এমনকি ২০১০ সালে সিরি আ-র সেরা ডিফেন্ডারের খেতাবও জিতেছেন।

সেই তুলনায় ফুটবলার হিসেবে আইমার, আয়ালা এবং ওয়াল্টারের ধারেকাছে ছিলেন না মেসিদের বর্তমান হেডস্যর লিওনেল স্কালোনি। তবে ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে আইমার এবং ২০১৯ সালে বাকি দুজনকে জাতীয় দলে ডেকে নেন। আইমার অবশ্য ২০১৭ সালেই আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের দায়িত্ব নিয়ে কোচিং কেরিয়ার শুরু করেন। ২০১৯ সালে তাদের মহেদেশীয় স্তরে চ্যাম্পিয়ন করার পর পুরোপুরি মেসিদের দলে মন দেন। দেশের জার্সিতে খেলা শুরুর সময় আইমার, আয়ালা এবং ওয়াল্টারকে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছিলেন এলএম১০।

১৯৯৩ সালের পর ২০২১। মাঝের ২৮ বছরে চেষ্টা করেও দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেনি আইমারদের মতো অনেকেই। এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করেছেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, যাঁরা চেষ্টা করেও অসফল হয়েছে, এই ট্রফি তাঁদের জন্য। ওই প্রজন্মের ফুটবলাররা জন্য রাস্তা তৈরি করে গিয়েছেন। আমরা তাতে হেঁটেই সাফল্য পেয়েছি। এই সাফল্য ধরে রাখাই লিওদের চ্যালেঞ্জ।