জলের তলায় ধান খেত ও চা বাগান, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

830

মানিকগঞ্জ: টানা বৃষ্টিতে জল বেড়েছে যমুনা নদীতে। নদীর জলে ইতিমধ্যেই প্লাবিত জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নদী সংলগ্ন নলজোয়াপাড়া, ঘাটেরপাড়, সেনপাড়া সহ বেশ কিছু এলাকা। নীচু এলাকাগুলিতে চা বাগান সহ আমন ধানের খেত জলে তলিয়ে যায়। ফলে চা গাছ ও খেতের ধান গাছ নষ্ট হতে বসেছে। কিছুদিন বাদেই আমন ধানের শিষ বের হবে। আর এই সময়ে ধান গাছ নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার বহু চাষি। একইভাবে বেশ কয়েকদিন যাবৎ চা বাগান জলের তলে ডুবে রয়েছে। এতে চা গাছ মরতে বসেছে। জলের তোড়ে বহু গাছ উপড়ে গিয়েছে। ফলে মাথায় হাত পড়েছে বহু ক্ষুদ্র চা চাষীর।

দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নলজোয়াপাড়া এলাকার মৃণাল রায়, ঘাটেরপাড়-সেনপাড়া এলাকার বিপুল সেন প্রমুখ ধান চাষী জানান, একদিকে গত কয়েকদিনের লাগাতার ভারী বৃষ্টি, অন্যদিকে নদীর জলে প্লাবিত হয়ে অনেক অনেক ধান খেত জলের তলায় চলে গিয়েছে। ধান গাছ নষ্ট হতে বসেছে। এলাকার বাসিন্দা সারদাপ্রসাদ দাস বলেন, নলজোয়াপাড়ার প্রায় দুহাজার ও ঘাটেরপাড়-সেনপাড়া এলাকার প্রায় তিনশ একর আমন ধানের জমিতে জল জমে রয়েছে। অসময়ে জলে প্লাবিত হয়ে আমন ধানের যে ক্ষতি হয়েছে তা চাষিরা কীভাবে সামলাবেন বুঝতে পারছেন না তিনি। আজও এলাকায় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দেখা মিলেনি।

- Advertisement -

অন্যদিকে বিন্নাগুড়ি, দেউনিয়াপাড়া, ভুজারীপাড়া ও সিপাইপাড়া এলাকার চা বাগান জলের তলে ডুবে রয়েছে।বিন্নাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র চা চাষী নবকুমার রায় বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ১০ বিঘা চা বাগান জলে ডুবে রয়েছে। জলের স্রোতে বেশ কিছু চা গাছ উপড়ে ভেসে গিয়েছে। জলের তলায় চা গাছ ডুবে থাকায় পাতা তুলতে পারছি না। একই কথা এলাকার ক্ষুদ্র চা চাষি ধৈর্য্যনারায়ণ রায়, পদ রায়, প্রসন্ন রায়ের গলাতেও। এলাকায় প্রায় ৫০ হেক্টর চা বাগান জলে ডুবে রয়েছে। বিন্নাগুড়ির অপর চাষী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, চা ও আমন ধানের পাশাপাশি শীতের ফসলের জলদি চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধাকপি, টমাটো ও শসার বীজতলা জলের তলায় চলে গিয়েছে। এছাড়াও করলা, বেগুন ও চিচিঙ্গার মতো আনাজের খেতও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পথে বসার মত অবস্থা এই গ্রাম পঞ্চায়েতের চাষিদের।

এদিকে শুক্রবারও ওইসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আজও বহু পরিবার মানিকগঞ্জ হাইস্কুলের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ে রয়েছেন। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা শুভকুমার দাস বলেন, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। তবে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জল নেমে গেল ক্ষতির আশঙ্কা কম। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।