প্রার্থীর ঝুলি ভরে ভোটে, পকেট ভরে না রাজেশদের

77

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : ওঁরা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। ভোট মেশিনারি বা চলতি কথায় ভোট করানোর লোকও নন। কিন্তু  নির্বাচন এলেই ডাক পড়ে ওঁদের। কারণ ডিজিটাল যুগে এখনও যে দেওয়াল লিখনই ভোট প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। তাই ভোটারদের নজর কাড়তে দেওয়ালে দেওয়ালে রংতুলির ছোঁয়া দিতে নেতাদের ভরসা রাজেশ সাহা, অনুপ দে প্রমুখ। তবে নেশার টানে এই কাজ চালিয়ে গেলেও তাঁদের মতো অনেকের গলায় আক্ষেপের সুর। ভোট মিটলেই নেতারা হাত তুলে নেন। অনেক সময় পাওনা বাকি থেকে যায়।

হাতেগোনা কদিন বাদে রাজ্যে ভোট। কর্মসূচির মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলি খোঁজ শুরু করেছে দেওয়াল লিখনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের। তাই রাজেশ, অনুপদের ছাড়া নির্বাচনি প্রচারের ব্যাপারে চিন্তাই করতে পারে না রাজনৈতিক দলগুলি। তবে নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লোকসানের মুখেই পড়তে হয় তাঁদের। তবুও ভোট এলেই রংতুলি হাতে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। ছোটবেলা থেকেই ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় লাভ-লোকসানের সেভাবে হিসেব কষেন না তাঁরা। শিল্পের টানেই রাজনৈতিক দলগুলির কথামতো দেওয়ালে শিল্পীসত্তা তুলে ধরার কাজে লিপ্ত হয়ে থাকেন এই কয়েকটা মাস। বর্তমানে প্রচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যম চলে এলেও দেওয়াল লিখনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতিও নজরে পড়ে। অনেকে ছবি তোলার জন্য তুলি হাতে তুলে নিলেও আসল শিল্পী যে দেবাশিস বণিকরাই। ৪০ বছর ধরে ভোট এলেই বিভিন্ন দলের হয়ে দেওয়াল লিখন করেন পেশায় ডেকোরেটার অনুপ দে। বছর ৪০ আগে ১০ বছর বয়সে ছোট দাদা স্বর্গীয় প্রদীপ দের হাত ধরেই অনুপ কংগ্রেস প্রার্থীর জন্য প্রথম দেওয়াল লিখন করেন। রবীন্দ্রনগরের এই বাসিন্দা বলেন, প্রথম দিকে কংগ্রেসের দেওয়াল লিখন করলেও কয়েক বছর তৃণমূলের দেওয়াল লিখনের দায়িত্বটা আমাদের হাতে ছিল। এই কাজ করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি।

- Advertisement -

তবে তাঁর অভিযোগ, প্রতি ভোটেই ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। ভোটের পর নেতারা হাত তুলে দেন। কিন্তু দেওয়াল লিখন আমাদের নেশায় পরিণত হওয়ায় এর থেকে দূরে থাকতে পারি না। একই বক্তব্য শক্তিগড়ের বাসিন্দা রাজেশ সাহার। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে আমার কাছে আঁকাই সব কিছু। ১৯৯৪ সালে প্রথম সিপিএম প্রার্থীর হয়ে দেওয়াল লিখন করি। এরপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরই দেওয়াল লিখন করেছি। সারাবছর বিয়ের অনুষ্ঠান ডেকোরেশন, সাইনবোর্ডের কাজ করলেও এই সময়টায় নেতারা ফোন করলে না বলা যায় না। কত টাকা যে পাইনি, সে হিসেব না বলাই ভালো। তবুও এটাও যে এক ধরনের নেশা, তাই কিছুটা মজার সঙ্গে এই কাজ করেন বলে জানান গত পুরনিগমে ভোট থেকে দেওয়াল লিখনে হাতেখড়ি হওয়া দেবাশিস বণিক। তাঁর বক্তব্য, ২০ বছর ধরে সাইনবোর্ড লিখি। গত পুরভোটে কংগ্রেসের এক কর্মী আমাকে এই দেওয়াল লিখনের কাজে উৎসাহ দেন। এই কাজে টাকা তো মার যায়। কিন্তু পেশার টান এবং নেতাদের অনুরোধ ফেলতে পারি না।