৮৭ লক্ষ টাকার আলোয় সাজবে কোচবিহার রাজবাড়ি

481

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : রাজ্য ও দেশের পর্যটন মানচিত্রে কোচবিহারকে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এজন্য ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। আর এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে পাঁচটি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বেশি কাজ করা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় কোচবিহার রাজপ্রাসাদকে রঙিন আলোর মোড়কে সাজিয়ে তোলা, কোচবিহার শহরে হেরিটেজ ওয়েলকাম গেট তৈরি, রাজ আমলের জলাধার সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন, সাগরদিঘি, বৈরাগীদিঘির সংস্কারের মতো কাজগুলি রয়েছে।

কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান শনিবার বলেন, হেরিটেজ কোচবিহারের কাজ এবং ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যান দুটো কাজই পাশাপাশিভাবে চলছে এবং চলবে। ধাপে, ধাপে সব কাজ হবে। প্রথমে পাঁচটি বড় কাজ হাতে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু মিলে একটি টুরিজম সার্কিট তৈরি করাই মূল লক্ষ্য বলে জানান জেলা শাসক। কোচবিহার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম প্ল্যানে একাধিক পরিকল্পনা করে একটি বিশেষ ম্যাপ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার রাজবাড়িকে সাজিয়ে তোলা। রাজবাড়ি রঙিন আলোতে সাজানোর জন্য প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকার একটি ডিপিআর তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। অনুমোদনের জন্য সেটা রাজ্যের পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই কাজ করার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে চিঠি পাঠিয়েছে।

- Advertisement -

বেশ কয়েক বছর আগে রাজবাড়ি রাতে রঙিন আলোতে সেজে উঠলেও বর্তমানে সেটা নেই। তবে আগামীতে ফের তা করতে চাইছে জেলা প্রশাসন। যাতে বাইরে থেকে রাতের বেলা সুন্দর আলোয় রাজবাড়িকে দেখতে পারেন সকলেই। এর সঙ্গে রয়েছে কোচবিহার শহরে থাকা রাজ আমলের জলাধার সংস্কার করার পরিকল্পনা। খাগড়াবাড়ি দিয়ে শহরে ঢোকার মুখে ওয়েকাম গেট ফর হেরিটেজ সিটি, সাগরদিঘি ও বৈরাগীদিঘির সৌন্দর্যায়নও হবে এই প্রকল্পে। এই পাঁচটি কাজ প্রথম ধাপে করতে ১০ কোটি টাকার বেশি রাজ্যের কাছে চেয়েছে জেলা প্রশাসন। টুরিজম প্ল্যানের পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে কোচবিহার শহরে কেশব রোডে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডগুলিকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া। এতে শহরে যানজট কম হবে। রসিকবিল, রসমতি ফরেস্ট, তিনবিঘা করিডর,  গোসানিমারির কামতেশ্বরী মন্দির ও গড়কে সাজিয়ে তোলা, পরিযায়ী পাখি যেখানে আসে সেই জায়গাগুলিকে নিয়ে কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। কোচবিহার শহরের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থানকে নিয়ে একটি ওয়াকিং টুর তৈরি করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে মহারাজা এক্সপিরিয়েন্স। জেলা প্রশাসন হেরিটেজ ও টুরিজম নিয়ে একটি লোগো তৈরি করেছে। সবমিলিয়ে তারা চাইছে হেরিটেজ কোচবিহারকে সামনে রেখে পর্যটনকে তুলে ধরতে, যাতে করে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে আরও বেশি করে আসেন। রাজ্যের মধ্যে কোচবিহার ও নবদ্বীপ শহরকে হেরিটেজ শহর ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই হিসাবে জেলার ১৫৫টি স্থান হেরিটেজের তালিকায় রয়েছে। এর পাশাপাশি কোচবিহার জেলার পর্যটনের প্রসারে প্রশাসন টুরিজম প্ল্যান তৈরি করেছে।