সেতু নেই, পলাশবাড়িতে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি : সেতুর দাবিতে আগে অনেকবার ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে আন্দোলন হয়েছে। সমস্যা সমাধানে অনেক প্রতিশ্রুতি মিললেও কোনও লাভ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়ির পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি ও কানাঘাই এলাকায় এক অন্যরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। পলাশবাড়ি লাগোয়া সনজয় নদীর উপর সেতু না থাকায় এলাকায় অনেকের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বেহাল সাঁকোর উপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা যাতায়াত করছেন।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পলাশবাড়ি বাস স্টপেজ থেকে দক্ষিণ দিকে একটি রাস্তা গিয়েছে। পলাশবাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে সনজয় নদীর উপর রয়েছে একটি বাঁশের সাকো। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রতি বর্ষায় এই সাঁকো ভেঙে যায়। আবার গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সাঁকো তৈরি করে দেয়। এদিকে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, পূর্ব কাঁঠালবাড়ির একাংশ ও কানাঘাই এলাকায় অনেক যুবক-যুবতীর বিয়ে হচ্ছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয় যুবক অভিজিৎ বর্মন বলেন, বাইরে থেকে এই এলাকায় অনেকের বিয়ের সম্বন্ধ আসে। সেতু না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিয়ে ভেঙে যায়। বেহাল সাঁকোর জন্য আমার নিজেরই কয়েকটি বিয়ে সম্বন্ধ এসেও ফিরে গিয়েছে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায়েও একই আক্ষেপ। তিনি বলেন, জাতীয় সড়কের কাছে থেকেও বর্ষাকালে সাঁকো ভেঙে গেলে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। সামাজিক পরিবেশের উপর এর প্রভাব পড়ছে। অনেক পরিবারই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও বিয়ে দিতে পারছে না।

- Advertisement -

কৃষকরাও ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে বাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় সমস্যায় পড়েছেন। এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে পারে না। স্থানীয় রমণীকান্ত রায় বলেন, এখানে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়। সেতুর দাবিতে এর আগে বহুবার ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়, আন্দোলনও করা হয়। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে বারবার আবেদন জানানো হয়। প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, পাকা সেতু না থাকায় ওই এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় রয়েছেন। সেতুর দাবি প্রশাসনের উপর মহলে পাঠানো রয়েছে। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে জানিয়েছেন, পলাশবাড়ির ওই সেতুর দাবির বিষয়টি কোন স্তরে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন।