কোকেন পাচারে অভিযুক্ত পামেলার পুলিশ হেপাজত

94

কলকাতা: শুক্রবার নিউ আলিপুরে একটি কফি শপের সামনে থেকে পামেলা গোস্বামী নামে বিজেপির জনতা যুব মোর্চার এক নেত্রী ও তাঁর সহযোগী প্রবীরকুমার দে’কে ১০০ গ্রাম কোকেন সহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আট ঘণ্টা পুলিশ হেপাজতে থাকার পর শনিবার তাঁদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে চত্বরে গাড়ি থেকে নামার পরে কুণাল ঘোষের কায়দায় পামেলা চিৎকার করে বলতে থাকেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে এবং সেই কাজটি করেছেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। সেই সঙ্গে তিনি বলতে থাকেন, রাকেশ সিং ও তাঁর মদতদাতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের সিআইডি শাখার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান পামেলা।

পামেলার তোলা অভিযোগের ব্যাপারে রাকেশ সিং বলেন, মেয়ে ড্রাগ অ্যাডিক্ট বলে পামেলার বাবা গত বছর এপ্রিলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কিছু লোক তাঁর মেয়েকে মাদকের প্রতি আসক্ত করে তুলেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছিলেন। রাকেশকে প্রশ্ন করা হয় আপনি নিজেও তো বিজেপি নেতা, তাহলে আপনার দলেরই একজন নেত্রী কেন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন? উত্তরে রাকেশ সিং পামেলার ওই অভিযোগের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দেড় বছর আগে তাঁর সঙ্গে পামেলার শেষ দেখা হয়েছিল। কিন্তু এদিন পামেলা যেভাবে তাঁর ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন তাতে হতবাক রাকেশ।

- Advertisement -

তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর থেকে পামেলা ও তাঁর সঙ্গী প্রায় আট ঘণ্টা পুলিশ হেপাজতে ছিলেন। আদালতে গিয়ে পামেলা যাতে নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ওই ধরনের অভিযোগ করেন সেব্যাপারে পুলিশ ও তৃণমূলের নেতারা তাঁকে বাধ্য করেছেন। নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে রাকেশ সিং জানান, তিনি কোনও নেশা করেন না। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় ৬০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

সূত্রের সূত্রের খবর, পামেলার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার খুব বেশি দিন হয়নি। রাজারহাটে তাঁর ও সঙ্গী প্রবীরকুমার দে’র একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। এদিন পামেলার মা দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

শনিবার আদালত পামেলা ও তাঁর দুই সঙ্গীকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।