পাহাড়চূড়ায় মেঘের সঙ্গে কানাকানি, অলস সৌন্দর্য গায়ে মেখে অপেক্ষায় পানবু

138
পানবু

শিলিগুড়ি: ‘নয়নাভিরাম’। কালিম্পংয়ের পানবুতে এলে মনে হতেই পারে যে বহু ব্যবহারের ক্লিশে হয়ে গিয়েছে এই শব্দবন্ধটি। বরং অভিধান হাতে নিয়ে সৌন্দর্যের ব্যখা দিতে কোনও নতুন শব্দ খুঁজে নিতেই হতে পারে আপনাকে। হ্যাঁ, পর্যটকদের কাছে সেভাবে এখনও পরিচিত হয়ে ওঠেনি কালিম্পং জেলার ইয়াংমাকুম পঞ্চায়েতের এই ছোট্ট গ্রামটি। হোটেল তো দূরস্থান, সেভাবে গড়ে ওঠেনি হোম-স্টেও।

 

- Advertisement -
পানবু

 

এক অনাঘ্রাত সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে, এক ঘণ্টার দূরত্বেই রয়েছে এমন এক টুকরো স্বর্গ। যেখানে আকাশটা যেন এক বিরাট ক্যানভাস। সেখানে ইশ্বর নিজের হাতে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছেন রং-তুলির খেলা। স্বপ্নের মতো ঘোর লেগে যায় এখানে পা রাখলেই। দূষণ শব্দটারই যেন কোনও অস্তিত্ব নেই এখানে। মেরে কেটে শ-খানেক লোকের বাস। কিছু পর্যটক আসেন বটে, তবে থাকতে হলে কাছেই পাঁচ কিলোমিটার দূরের সামথার বা আট কিলোমিটার দূরে চারখোল। অনেকে কাছে পিঠেই পাবুংয়েও থাকেন। ফলে এখনও সেভাবে পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠেনি পানবু। তবে ভিউ পয়েন্ট হিসেবে অনেকেই আসেন এই স্বর্গপোম স্থানটিতে। সারাদিনই যেখানে বিশুদ্ধ তাজা হাওয়ার উপস্থিতি। সারাবছর ১৮ ডিগ্রি থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যেই থাকে তাপমাত্রা। শীতে তা নেমে আসে ৮ ডিগ্রিতে।

চারখোল

পানবুর বিশেষত্ব হল এখান থেকেই একদিকে ডুয়ার্সের সমতল অংশের সুবিস্তৃত ছবি যেমন ধরা পড়বে, তেমনি একদিকে দেখা যাবে পাহাড়। যেখানে আপনার নাগালেই মেঘেদের আনাগোনা। আবহাওয়া ভালো থাকলে পানবু থেকে পরিষ্কার ধরা পড়বে কাঞ্চনজঙ্খার ছবি। ৩৬০ ডিগ্রি জুড়েই সমতল ও পাহাড়ের দৃশ্য। দূরে বহু নীচে দেশলাইয়ের খোলার মতো দেখা মিলবে সেবক করোনেশন সেতু ও রেল সেতুর। পরিষ্কার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য পানবুর খ্যাতি আছে। শিলিগুড়ি থেকে কালিঝোরার ঠিক আগেই তিস্তা হাইডেল প্রোজেক্টের ভিতরের রাস্তা দিয়ে যেমন পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে, তেমনি কালিম্পং থেকেও আসতে পারেন ৪৮ কিলোমিটার দূরের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটিতে। থাকার জন্য সুবিধাজনক হবে চারখোলই। যেই পাহাড়ি গ্রামের খ্যাতি রয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি পাখির জন্যও। থাকতে না চাইলেও একদিনেও ঘুরে আসতে পারেন। তাই সময় নষ্ট না করে দেখেই ফেলুন পানবু-চারখোল।

পানবু