পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অভাব

169

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠার পর ছয় বছর হতে চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও কোনও স্থায়ী নিরাপত্তা আধিকারিক নেই। এর ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট অফিসারই নিরাপত্তা আধিকারিকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০১২ সালে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ছিল পুণ্ডিবাড়িতে। এরপর ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের বিবেকানন্দ স্ট্রিট এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে। এতগুলি বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনও স্থায়ী নিরাপত্তা আধিকারিক নেই। ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে তাঁর নিজের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করতে হচ্ছে। অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের দাযিত্বে রয়েছেন মাত্র  চারজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁরাই দুই শিফটে ক্যাম্পাস পাহারা দিচ্ছেন। এত বড় ক্যাম্পাসে মাত্র চারজন কর্মী কতটা নিরাপত্তার বিষয়টি সামাল দিতে পারবেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন পড়ুয়াদের অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ কিছু জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এখনও নেই। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যেমন চুরির ঘটনা ঘটেছে, তেমনই গত সমাবর্তনের আগে এক অধ্যাপকের গায়ে মদের বোতল ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়ে পুলিশেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। বছর দুয়েক আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে টাকার পাশাপাশি বাসনও চুরিও হয়েছিল। এত ঘটনার পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনাও বেড়েছে। এই অবস্থায় দাবি উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যথেষ্ট আলোর ব্যবস্থা করা হোক এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আরও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হোক। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের দাবিও উঠেছে। এ বিষয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম ঘোষ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পাশাপাশি, কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ক্যাম্পাসে ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হতে পারে। তাই আগে থেকেই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ডঃ দেবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন, সরকার থেকে নিরাপত্তা আধিকারিকের অনুমোদন এখনও মেলেনি। তাই ডেভেলপমেন্ট অফিসার নিরাপত্তা আধিকারিকের দায়িত্বে রয়েছেন। অপরদিকে, নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগের বিষয়টিও কেউ জানাননি। অভিযোগ এলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -