ভবঘুরে যুবতীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার বন্দোবস্ত

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : মানবিকতা এখনও হারিয়ে যায়নি। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীর দায়িত্ব যখন পঞ্চায়েত থেকে পুলিশ-প্রশাসন এড়িয়ে গিয়েছে, তখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বোয়ালদাড় পঞ্চায়েতের বড় কাশিপুর সংসদের সদস্য অনুকূল দাস। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবতীকে তিনি নিজের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা এবং খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। অনুকূলবাবুর স্ত্রীই ওই যুবতীকে দেখভাল করছেন। তা সত্ত্বেও ওই যুবতীর পুনর্বাসন নিয়ে চিন্তিত সকলেই। বালুরঘাট হাসপাতালের মানসিক বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা ওই যুবতী আচমকা কীভাবে এলাকায় ফিরে এল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা কীভাবে তাঁকে ছেড়ে দিলেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও এদিন এই নিয়ে বালুরঘাট হাসপাতাল সুপার পার্থপ্রতিম মণ্ডলকে ফোন করেও তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি।

বড় কাশিপুর সংসদের কাশিপুর এলাকায় বাড়ি ছিল ওই যুবতী সান্ত্বনা মহন্তের। ছোটবেলাতে বাবা এবং মাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়েছিলেন সান্ত্বনা ও তাঁর ভাই। দুই ভাই বোন এরপর কার্যত মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ভাই এলাকাতে থেকে গেলেও গ্রামবাসীরা সান্ত্বনাকে পাঠিয়ে দেন একটি মহিলা হোমে। পরে সেখান থেকে অসুস্থ হওয়ায় বালুরঘাট হাসপাতালের মানসিক বিভাগে চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাখা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা ওই যুবতীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিল বলেই তাঁকে চিকিৎসা করতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আচমকা বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় ওই যুবতীকে। এরপরে ফের তাঁকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। হাসপাতালে ফেরত পাঠানো বা অন্যভাবে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পুলিশ, ব্লক অফিস বা পঞ্চায়েতকে জানান অনেকেই। কিন্তু কেউই তেমন আগ্রহ দেখায়নি। ফলে রাস্তাতেই রাত কাটানোর উপক্রম হয়েছিল ওই যুবতির। এদিকে তাঁর মুখ এবং চোখে আঘাত থাকায় আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

- Advertisement -

এরপরে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অনুকূল দাস ও তাঁর স্ত্রী ওই যুবতীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। আপাতত সেখানেই ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী থাকলেও, তাঁকে দ্রুত কোনও সরকারি হোম বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক বলে আবেদন জানিয়েছেন অনুকূলবাবু। তিনি বলেন, সন্ধ্যেবেলা সান্ত্বনা এলাকার রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছিল। তাঁর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমরা বারবার পুলিশ, পঞ্চায়েত, ব্লক অফিসে খবর দিয়ে, ওই যুবতীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারিনি। কেউই তেমন আগ্রহ দেখায়নি। সকলের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করি। কাশিপুরের বাসিন্দা জীবন ঘোষ বলেন, সান্ত্বনার পুনর্বাসনের জন্য আমরা কিছুতেই হাসপাতাল বা পুলিশের সাহায্য পাইনি। কিন্তু এভাবে এই যুবতীকে এলাকায় ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই পঞ্চায়েত সদস্যদের অনুরোধ করে তাঁর বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এখন কি করব, সেটা ভেবে পাচ্ছি না।