রাঙ্গালিবাজনা : মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে জাঁকিয়ে বসেছে মাসলম্যানরা। নিয়ম কানুনের বালাই নেই। প্রধান সহ অন্য কর্মীদের সামনেই তারা ঠিকাদারের কাগজপত্র জমা দেওয়ার কাজে বাধা দিচ্ছে। ঠিকাদারের তরফে প্রশাসন ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে অভিযোগ আসায় এনিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, এক ঠিকাদারের নিয়োগ করা মাসলম্যানরা  অন্য ঠিকাদারদের টেন্ডার জমা দিতেই দেয়নি বলে অভিযোগ । খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ের ভিতরে এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

এলাকার ঠিকাদার ইউসুফ আহমেদ সহ একাধিক ঠিকাদার এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জয়দেব দাসের কাছে। তবে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও টেন্ডার বাক্সে ওই ঠিকাদারকে কাগজপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি‌। পরে অবশ্য প্রধান জয়দেব দাস হাতে হাতেই ওই ঠিকাদারের কাগজপত্র জমা নেন। প্রধান বলেন, ‘একটু সমস্যা হয়েছিল । পরে তা মিটে গিয়েছে।’

ঠিকাদার ইউসুফ আহমেদ  বলেন, ‘প্রায় এগারো লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে একটি অফিসঘর নির্মাণের জন্য। কাজের বরাত বন্টনে ‘ই-টেন্ডার’  ডাকা হয় । আমরা ই টেন্ডারে অংশ নিই । কিন্তু, শর্ত অনুযায়ী কাগজপত্রের কপি গ্রাম পঞ্চায়েতের টেন্ডার বাক্সে ফেলার কথা ছিল। সম্প্রতি নির্ধারিত তারিখে টেন্ডার বাক্সে কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে দেখা যায়, আরেক ঠিকাদারের নিয়োগ করা দু’জন মাসলম্যান টেন্ডার বাক্স আগলে বসে আছে। বাক্সে কাগজপত্র ফেলার নির্দিষ্ট মুখ ইট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে তারা। তাদের বাধায় টেন্ডার জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি । পরে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে প্রধান অফিসের বাইরে হাতে হাতে কাগজপত্র জমা নেন।

খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও বহুবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের মধ্যেই কয়েকটি ভাগ হয়েছে। ফলে, মাঝে মাঝেই টেন্ডার জমা করা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, এলাকার বেশ কিছু লোকজন খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়টিকে ক্লাবের মতো ব্যবহার  করছেন। রাজনীতি করাই তাদের। ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, ওই লোকজনদের মাথার ওপর একশ্রেণির জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের হাত রয়েছে। মূলত, কাটমানিকে কেন্দ্র করেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কয়েকজন ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান জয়দেব দাস বলেন, ‘বাকি ঠিকাদারদের কাগজপত্রগুলি হাতে হাতেই জমা নেওয়া হয়েছে। সমস্যা মিটে গিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে জনসাধারণের কাউকে ঢুকতে বাধা দেওয়া বা আপত্তি জানানো সম্ভব নয়।’ কাটমানির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

তথ্য ও ছবি- মোস্তাক মোরশেদ হোসেন