১০০ দিনের কাজের তালিকায় নাম উপপ্রধানের

268
প্রতীকী ছবি

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের তালিকায় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের নাম। তাঁর নামে দুটি জব কার্ডও রয়েছে। তাঁর স্ত্রী, বৃদ্ধা মা, উপার্জনশীল ছেলে এবং অন্যত্র বিয়ে হয়ে  যাওয়া মেয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৮ দিনের কাজের টাকা ঢুকছে। একই পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকজন সদস্যের নামে জব কার্ড রয়েছে। শ্রমিকের কাজ না করলেও তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০০ দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজগঞ্জের ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে শোরগোল পড়েছে। প্রধান নমিতা করাতি বলেন, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। করোনা ঠেকাতে বিধিনিষেধ উঠে গেলে এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

সূত্রের খবর, ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধান পতলাল রায়ের নামে দুটি জব কার্ড। একটি কার্ডে তাঁর সঙ্গে স্ত্রী এবং ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের নাম রয়েছে। অন্য কার্ডে তাঁর সঙ্গে ছেলে ও মেয়ের নাম রয়েছে। ছেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন সুপারভাইজার এবং ঠিকাদার। অন্য জেলায় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। কেউই ১০০ দিনের কাজ করেন না বলে অভিযোগ। তা সত্ত্বেও অন্যান্য বছরের কথা বাদ দিলেও ২০২০-২১ আর্থিক বছরে উপপ্রধানের স্ত্রী ও মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪৯ দিন করে কাজের টাকা ঢুকেছে। ছেলে ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে ৭৮ দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। সম্প্রতি নিকাশিনালার কাজ করার জন্য ৬০৮টি শ্রমদিবসের মাস্টার রোল তোলা হয়েছে। ১-১৬ জুন কাজের কথা রয়েছে। কিন্তু ওই কাজ করা হচ্ছে না। ফলে ওই কাজের শ্রমিকরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে উপপ্রধানের প্রতিক্রিয়া, সুপারভাইজার কোথায় কী করেছে খোঁজ নিয়ে দেখব।

- Advertisement -

১০০ দিনের কাজ নিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য গীতা দাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নামেও জব কার্ড রয়েছে। অন্যান্য বছরের কথা বাদ দিলেও ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ওই পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০০ দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। এলাকার তৃণমূল বুথ সভাপতি পিংকু রায় বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য তাঁর ভাইকে ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার করে ব্যাপক দুর্নীতি করছে। কাজ না করেও স্বামী ও স্ত্রী ১০০ দিনের কাজের টাকা নিচ্ছেন।  নিকাশিনালা করার জন্য ৩ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ৪২০ শ্রমদিবসের ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ পেয়ে তা করাচ্ছেন না। গীতাদেবীর বক্তব্য, ১০০ দিনের কাজ করা হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে ১০০ দিনের কাজের দেখভাল করা হয়। প্রয়োজনে কাজে হাতও লাগানো হয়।

বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সীমা সাহা সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য বছরের বিষয়টি বাদ দিলেও ২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১ আর্থিক বছরে সীমাদেবী ও তাঁর স্বামী কাজ না করে ১০০ দিনের কাজে ২০০ দিনের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। সীমাদেবী বলেন, আমার স্বামী এই কাজের দেখভাল করেন। আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য নরেশ রায়ের স্ত্রী ছায়া রায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। নরেশবাবু অবশ্য বলেন, আমরা গরিব। স্ত্রী আগে শ্রমিকের কাজ করতেন। তবে আমি পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার পর শ্রমিকরাই আমার স্ত্রীকে নিয়ে কাজে ইতস্তত বোধ করেন। তাই কাজ না করলেও শ্রমিকের তালিকায় নাম রাখা হয়। তবে কেউ আপত্তি করলে স্ত্রীর নাম রাখব না।