নড়বড়ে তিন সেতুতে আতঙ্ক মেটেলিতে

251

রহিদুল ইসলাম, মেটেলি : মেটেলি ব্লকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর বেহাল দশা। সেতুগুলি যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। মেটেলি ব্লকের মেটেলি শ্মশান কালীবাড়ি সংলগ্ন কুর্তি নদীর সেতু, চালসা চা বাগানের সর্দি নদীর সেতু ও বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুর্তি সেতু দ্রুত সংস্কারের দাবি উঠেছে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

চালসা চা বাগানের সর্দি নদীর ওপর বেহাল সেতু নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেতুটির নীচে দুই পাশে ফাটল ধরেছে। রেলিংয়ে লোহার রডও বেরিয়ে এসেছে। সেতুর নীচে শ্যাওলা ও আগাছায় ভরে গিয়েছে। যে কোনও সময় সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নড়বড়ে এই সেতুর ওপর দিয়ে শ্রমিক মহল্লার কয়েক হাজার মানুষ সহ স্কুল পড়ুয়ারা যাতায়াত করে। সেতুর বেহাল দশার কথা বাগান কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জলপাইগুড়ি জেলা শাসক, মাল মহকুমা শাসক, মেটেলির বিডিওকে জানিয়েছে। মাল মহকুমা শাসকের নির্দেশে মেটেলি বিডিও অফিসের কর্মীরা সেতুটি পরিদর্শনও করে গিয়েছেন। কিন্তু সেতু সারাইয়ে হাত পড়েনি। দ্রুত সেতুটি নতুন করে তৈরির দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

একই অবস্থা মেটেলি বাজারের শ্মশান কালীবাড়ি সংলগ্ন কুর্তি সেতুর। এই সেতুর ওপর দিয়ে রোজ চিলোনি, নাগেশ্বরী, জুরন্তি ও ইনগু চা বাগানের কয়েক হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সহ বাইক, ছোট গাড়ি, বাস চলাচল করে। লোহার পিলার দেওয়া এই সেতুর দুই পাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। নীচে শ্যাওলা ধরেছে। দুই পাশে মাটি ধসে পড়ছে। সেতুটিকে ব্লক প্রশাসনের তরফে দুর্বল ঘোষণা করে বোর্ডও লাগানো হয়েছে। অনেকে এসে সেতুটি পরিদর্শনও করে গিয়েছেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। এলাকার জেলা পরিষদ সদস্যা আশ্রিতা লাকড়া মুন্ডা বলেন, জেলা পরিষদের তরফে ওই সেতু দুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতুগুলো মেরামতের জন্য জেলা পরিষদ থেকে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সেতুগুলোর কাজ করা হবে।

এদিকে, বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুর্তি নদীর সেতুরও একই অবস্থা। বিধাননগরের সঙ্গে বাতাবাড়ির যোগাযোগের এটাই একমাত্র রাস্তা। এই সেতুটিকেও বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে দুর্বল সেতু ঘোষণা করে বোর্ড লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেই বোর্ডকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভারী যানবাহন। কয়েকমাস আগে ওই সেতুর ওপরে একটি পণ্যবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে। এখনও সেতুটির রেলিং ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। রেলিংয়ের লোহার রড বেরিয়ে আছে। বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নীতেন রায় বলেন, সেতুটিকে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে দুর্বল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুর কথা ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এলাকার জেলা পরিষদ সদস্যা সীমা সরকার বলেন, সেতুটি জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার এসে পরিদর্শন করে গিয়েছেন। সেটি সংস্কারের প্রকল্প নেওয়া আছে। স্থানীয় বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, সেতুগুলোর কথা জানা আছে। সেগুলোর মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে।