চার দশকে পাট্টা পাননি অসম থেকে বিতাড়িতরা

কামাখ্যাগুড়ি : প্রায় চার দশক আগে অসম থেকে বিতাড়িত হয়ে আট হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ডাঙ্গিতে। সব সরকারি উন্নয়নের সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন। তবে সবার জমির পাট্টা না থাকায় এনআরসি আতঙ্ক মাথাচাড়া দিয়েছে ডাঙ্গি ক্যাম্পে।

আটের দশকে অসমে বঙালি খেদাও আন্দোলনের জেরে হাজার হাজার বাঙালি ওই রাজ্য ছেড়ে আলিপুরদুয়ার জংশন রেলস্টেশন চত্বরে চলে আসেন। রাজ্যের তত্কালীন বাম সরকার জংশন স্টেশনেই তাঁদের জন্য একটি সেল খোলে। শহর থেকে ২৫ কিমি দূরে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ফাঁকা মাঠ ডাঙ্গি এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে বিতাড়িতদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সময় ক্যাম্পে প্রায় ১২০০ রিফিউজি পরিবার ছিল। ১৯৮০ সালের পর ১৯৮৩ সালেও অসমে ফের একবার বঙালি খেদাও আন্দোলনে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ডাঙ্গি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে অসম সরকার কিছু মানুষকে ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু সিংহভাগ মানুষই অসম যেতে অস্বীকার করে ডাঙ্গিতেই থেকে যান।

- Advertisement -

ধীরে ধীরে রাজ্য সরকার এইসব মানুষের র‌্যাশন কার্ড, ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করে। ইন্দিরা আবাস যোজনায় সরকারি ঘরও পায় পরিবারগুলি। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের কোহিনুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ডাঙ্গি এলাকা। জীবিকার প্রযোজনে বহু মানুষ ডাঙ্গি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ডাঙ্গিতে অসম থেকে আসা ওই পরিবারগুলি রয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে এই পরিবারগুলিকে বাড়ির জমির পাট্টা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত ৮০০ পরিবার জমির পাট্টা পেলেও কিছু পরিবার এখনও পায়নি। তবে সব পরিবারই পাট্টা পাবে আশ্বাস দিয়েছে সরকার। যদিও পাট্টা না পাওয়া পরিবারদের মধ্যে এনআরসি আতঙ্ক চেপে বসেছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী নবতিপর শশীমোহন দেবনাথ বলেন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভিটেমাটি হারিয়ে অসমে আসি। অসমের গণ্ডগোলে সব হারিয়ে এখানে ঠাঁই হয়েছে। এখন এনআরসি হবে বলে শুনতে পাচ্ছি। আর ভিটেমাটি ছাড়া হতে চাই না। আরেক বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র দেবনাথ বলেন, র‌্যাশন কার্ড, ভোটার কার্ড ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র নেই। জমির কাগজ কী দেখাব? স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ধনঞ্জয় দেবনাথ জানান, ডাঙ্গিতে বসবাসকারী মানুষরা অসমের গণ্ডগোলে শুধু প্রাণটুকু হাতে নিয়ে এসেছেন। কাগজপত্র কিছুই আনতে পারেননি। এনআরসি হলে ক্যাম্পের কাগজপত্র ছাড়া কিছুই দেখাতে পারবেন না। তাই এনআরসি আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে।