ওভারলোডিং, বেপরোয়া গতি, মাদারিহাট বীরপাড়ায় ডাম্পার নিয়ে আতঙ্ক

513

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: বাহন তো নয়, এ যেন ‘যমদূত’। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ও বীরপাড়া থানা এলাকায় একের পর এক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ডাম্পার। এগুলির দাপট দেখা যাচ্ছে ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়েতেও। কখনও বেপরোয়া গতি, কখনও আবার মাত্রাতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের জন্য দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ডাম্পারগুলি। কখনও পথচারীর প্রাণ কাড়ছে ডাম্পার তো কখনও আবার ডাম্পারে মাত্রাতিরিক্তভাবে বোঝাই ডলোমাইট, বোল্ডার হুড়মুড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ান হাইওয়ে সহ মাদারিহাট ও বীরপাড়া থানা এলাকায় রাজ্য সড়কগুলিতে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডাম্পার।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর এথেলবাড়ি চেকপোস্টের কাছে এশিয়ান হাইওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চলন্ত অবস্থায় একটি ডাম্পার চালকের কেবিন সহ সামনের অংশটি উল্লম্বভাবে সামনে উঠে গেলে আটটি চাকার মধ্যে ছয়টি চাকাই রাস্তা থেকে শূন্যে উঠে যায়। বোঝাই করা ছোট বোল্ডার ও বজরি হুড়মুড়িয়ে রাস্তার ওপর গিয়ে পড়ে। যদিও ঘটনায় কেউ জখম হননি। প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ করায় গত বছরের ৭ নভেম্বর বীরপাড়ায় একটি ডাম্পারের ডালা খুলে গেলে বোঝাই ডলোমাইটের স্তূপ গিয়ে পড়ে একটি ছোট গাড়ির ওপর। জখম হন দুই আরোহী।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক প্রাণ কাড়ছে এলাকায় ‘যমদূত’ হিসেবে পরিচিত ডাম্পার ও হাফ ডালার ট্রাকগুলি। ফলে, বীরপাড়া সহ সন্নিহিত এলাকাগুলির রাস্তায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ধরনের মালবাহী গাড়িগুলি। মূলত বালি, বোল্ডার, স্টোনচিপস ও ডলোমাইট বহন করে এই মালবাহী গাড়িগুলি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নিয়মমাফিক যতটা মাল বোঝাই করার কথা, বাস্তবে তার থেকেও অনেক বেশি মাল পরিবহণ করা হচ্ছে ডাম্পারগুলিতে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, ডাম্পারের ডালা উপচে মাঝে মাঝেই বোল্ডার, ডলোমাইটের চিপস রাস্তায় পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই, পথ চলতে ডাম্পার থেকে ছিটকে পড়া বোল্ডারের আঘাতে যে কোনও মুহূর্তে জখম এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকছে বীরপাড়ায়। বীরপাড়া থানার সামনে দিয়েই পাগলি ভুটান থেকে এভাবে মাত্রাতিরিক্তভাবে ডলোমাইট বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয় দলগাঁও রেলস্টেশনে। স্বাভাবিকভাবেই, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়ের ওপর ডিমডিমা চা বাগান এলাকায় ডাম্পারের দুর্ঘটনায় আরোহীর প্রত্যেকেই প্রাণ হারান। ৩ মার্চ ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়ের ওপর রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা মারলে মৃত্যু হয় ট্রাকচালক ইন্দ্রজিৎ কুমার রায়ের। বীরপাড়া লঙ্কাপাড়া রোডেও প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ডাম্পারগুলি। ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু ও জখমের ঘটনা ঘটে চলেছে। কখনও উলটে যাচ্ছে ডাম্পার, কখনও সেগুলি রাস্তা ঘেঁষে বাড়ি ও দোকানে ধাক্কা মারছে। বীরপাড়া লঙ্কাপাড়া রোডে এর আগে রাধিকা সুরি, চন্দ্রলাল ছেত্রী, মোতিলাল দোরজি সহ বেশ কয়েকজনের ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে। ডাম্পারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দলমোর চা বাগানের বাসিন্দা ছুনু ঘিসিং সহ রামঝোরা চা বাগানের এক বাসিন্দার বাড়ি, দোকান। বীরপাড়া থানার ওসি পালজার ভুটিয়া বলেন, ‘ওভারলোডিং বন্ধে এমভিআই, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের যানবাহনগুলির বিরূদ্ধে লাগাতার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’