রাস্তার পাশে চিপস বিক্রি করেন দিলরাজ

দেরাদুন : ২০০৪ সালে বন্দুক হাতে তুলে নেন। তখন তিনিই দেশের একমাত্র মহিলা প্যারাশ্যুটার। সেই দিলরাজ কাউর এখন দেরাদুনে মায়ের সঙ্গে রাস্তার পাশে বসে চিপস বিক্রি করেন।

১৭ বছর আগে শ্যুটিং শুরু করা দিলরাজ ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক প্যারাশ্যুটারও। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির বিশ্বকাপ সহ বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতীয়স্তরে অন্তত ৩০টি পদক জিতেছেন। এবছর উত্তরাখন্ডে রাজ্যস্তরে শ্যুটিং প্রতিযোগিতায় সোনাও পেয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক মাস আগে দিল্লির শ্যুটিং বিশ্বকাপ সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অফিশিয়াল হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।

- Advertisement -

কিন্তু ২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্ঘটনায় ভাইয়ে মৃত্যুর পর দিলরাজরা আক্ষরিক অর্থেই পথে নামতে বাধ্য হন। তাঁর কথায়, প্রথমে বাবা চলে যান। তাঁর ডায়ালিসেসর বিপুল খরচ ছিল। ফেব্রুয়ারিতে ভাই ছাঁদ থেকে পড়ে মাথায় চোট পায়। ওর চিকিৎসায় কোটি টাকার উপরে খরচা হয়। ভাইও চলে গেল আর আমরাও ঋণে ডুবে রয়েছি।

সংসার চালাতে তাই চিপস বিক্রি শুরু করেছেন মা-মেয়ে। তিনি বললেন, আগে আমরা গোবিন্দগড়ে বাড়ির কাছে চিপস নিয়ে বসতাম। তবে ভিড় বেশি হওয়ায় মায়ের কথা মতো এখন গান্ধি পার্কের কাছে বসছি। তাঁর আক্ষেপ, উত্তরাখন্ডের ক্রীড়াকর্তারা সকলে আমার পরিস্থিতি জানেন। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশন বা রাজনীতিক, কোনও পক্ষেরই সাহয্য পাইনি।

যদিও সরকারি ত্রাণ চান না ৩৪ বছরের দিলরাজ। তাঁর কথায়, আমি একজন কোচ, আমার আইনের ডিগ্রিও আছে। আমি একটা সরকারি চাকরি চাই। আর আমি যা অর্জন করেছি, তাতে এই দাবি অন্যায্য নয়। রাজস্থান, হরিয়ানায় ক্রীড়াবিদদের সরকার গ্রেড বি চাকরি দেয়। কিন্তু আমাদের রাজ্যে কিছুই মেলে না। আবেদন করলে তাঁর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে উত্তরাখন্ডের ক্রীড়া দপ্তর।