বিরাটের ভারত অসম্ভবকে সম্ভব করতে জানে

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ১৯৯৬ সালে ভারতের ইংল্যান্ড সফরে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়ের। বাকিটা আজ ইতিহাস।

সেই সিরিজেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মুম্বইয়ের পরস মামরের। প্রতিভা ও যোগ্যতা থাকলেও ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দীর্ঘ হয়নি। ২টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ান ডে ম্যাচে থেমে গিয়েছিল পরসের কেরিয়ার। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি দেশের অন্যতম সফল পেসার ছিলেন। কোচ হিসেবে আরও সফল। বাংলাকে টানা দুই মরশুম রনজি ট্রফির ফাইনালে তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বোলিং কোচ হিসেবেও সাফল্য পেয়েছেন পরস। কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড়ের সহকারি হিসেবে ভারতের দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছেন। আপাতত মুম্বইয়ে হোটেলে কোয়ারান্টিনে রয়েছেন। আর সেখান থেকেই বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানের ভারতকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন পরস।

- Advertisement -

ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ভবিষ্যৎ

দারুণ উত্তেজক একটা টেস্ট ম্যাচ চলছে। মুম্বইয়ে হোটেলে কোয়ারান্টিনের মধ্যেই টিভির দিকে নজর রয়েছে আমার। ইতিমধ্যেই দুটো দিন বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছে। তারপরও মনে হয়, এই ম্যাচের ফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শর্ত হল, আর যেন বৃষ্টি না হয়। বিরাট কোহলির ভারত সহজে ছাড়বে না নিউজিল্যান্ডকে। ওরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে জানে।

বোলারদের স্ট্র‌্যাটেজি নিয়ে পরামর্শ

নতুন করে কাউকে আর কিছু বলার নেই। সামি-বুমরাহ-ইশান্তরা আগেও ইংল্যান্ডে খেলেছে। ফলে ওদের বিলেতের পিচ ও পরিবেশ নিয়ে ধারণা আছেই। সামি আজ অসাধারণ বল করে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণও করেছে। ওর ছন্দটা বাকিরা দেখাতে পারলে ভালো হত। আর বুমরাহর লেংথটা যদি আর একটু উপরের দিকে হত।

কাইল জেমিস

দারুণ পেসার। উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বল করতে জানে। দুই দিকে সুইংও রয়েছে। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার জন্যই ওর চোটের সম্ভাবনাও থাকছে ভালোরকম। তাছাড়া কিউয়িরা ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে দুটো টেস্ট খেলে ফেলেছে। তাই জেমিসন, বোল্ট, সাউদিদের একটু বেশি ভয়ঙ্কর দেখিয়েছে। রোহিত-কোহলিরা দ্বিতীয় ইনিংসে চ্যালেঞ্জটা সামলে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।

মিশন শ্রীলঙ্কা

আপাতত আমরা কোয়ারান্টিনে। ২৮ জুন কলম্বো রওনা হওয়ার কথা। ওখানেও কোয়ারান্টিন থাকবে আমাদের জন্য। এভাবে হোটেলবন্দি হয়ে থাকা খুব বিরক্তিকর। কিন্তু করোনার কারণে করারও তো কিছু নেই। কোয়ারান্টিন শেষ করে মাঠে নামার জন্য দলের সবাই মুখিয়ে রয়েছে।

অধিনায়ক ধাওয়ান

শিখরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ক্রিকেটার হিসেবে ওর প্যাশন ও দায়বদ্ধতা অসাধারণ। এবার অধিনায়ক হিসেবেও নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে ও।