পরিকাঠামোগত সমস্যায় ধুঁকছে পারডুবির ডাকঘর

488

দেবাশিষ দত্ত, পারডুবি: পরিকাঠামোগত সমস্যায় ধুঁকছে মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবির ডাকঘর। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারডুবি বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ডাকঘরটি।

দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ডাকঘরটি। ডাকঘরের অফিস কক্ষটি বেহাল অবস্থায় থাকায় পরিষেবা আদান-প্রদানে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের পাশাপাশি ডাকঘরের কর্মীদেরও। মেঝের ঢালাই উঠে বালি-পাথর বের হয়ে কঙ্কালসার অবস্থা। এভাবেই চলছে গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার কাজ। তবুও সংস্কারের কোনও বালাই নেই বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

এদিন ডাকঘরে আসা স্থানীয় বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, পিলার ও দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটলের জের পলেস্তরা খসে পড়েছে, মেঝে ভাঙনের জেরে প্লাস্টার উঠে গিয়ে বালি বের হয়েছে। যে কোনও সময় পুরানো ঘরটি ভেঙে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এছাড়াও পরিকাঠামোগত নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাকঘরটিতে নিজস্ব কোনও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও নেই। স্থানীয় ওই ডাকঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আগে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ একটি পাখা দিয়েছিল। সেটি বিকল হয়ে পড়ায় বিপত্তি হয়। সম্প্রতি, পোস্ট মাস্টার ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি টেবিল ফ্যান নিয়ে এসে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিদ্যুতের আবেদন জানান, অন্যের থেকে চুক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ করে আপাতত চলছে।

বিভিন্ন সময়ে জরুরি কারণে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু মানুষের নির্ভরশীল এই ডাকঘরটি। পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময়ে পরিষেবা প্রদানেও বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ। তাই দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্রাহকরা ডাকঘরটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে ডাকঘরের ব্রাঞ্চ পোস্ট মাস্টার পরিতোষ সরকার জানান, এই ডাকঘরটি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৈরি করা একটি ঘরে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এই ঘরটিতে ডাকঘর করার অনুমতি দেয়। ডাকঘরটির পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় এর আগেও সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সেখান থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। খুব শীঘ্রই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে ফের জানানো হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক বর্মন জানান, ডাকঘর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত কোনওরকম কর বা ভাড়া পায় না, এই খাত থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও আয় নেই, সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কি করে মেরামত করবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ওই দপ্তর থেকে সংস্কারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এটাই চাই। এইবিষয়ে কোচবিহার জেলা সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট অফিস রুপক কুমার সিনহা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।