তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা পরেশ! মেখলিগঞ্জে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে

165

মেখলিগঞ্জ: তৃণমূলের একাংশের ভয়ের কারণ তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারীর। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এমনকি তৃণমূলীদেরও একটি অংশ। এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য, রাজ্যের এক নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দলের কথা অজানা নয় কারোরই।

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এনিয়ে দলের অন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি  হয়েছিল। এবার এই কেন্দ্রে গতবারের প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্যবাবুকে টিকিট দেয়নি তাঁর দল। তাঁর বদলে পরেশবাবুকে প্রার্থী করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট অর্ঘ্যবাবুর কর্মীসমর্থকদের একাংশ। এই অবস্থায় তাই পরেশবাবু কিভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন  সেটার উপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে। গত বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের অর্ঘ্যবাবুর বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যান পরেশবাবু।

- Advertisement -

দলের কয়েকজন নেতার অবশ্য বক্তব্য, তৃণমূলে যোগদানের পরও যেভাবে পরেশবাবু তাঁর বুদ্ধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একের পর এক সুযোগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ দলে ঢোকার পরেই তৃণমূলের তরফে তাকে লোকসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। অর্ঘ্যবাবুকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় পরেশবাবুকে চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদে বসানো হয়েছে। এরপর  মেখলিগঞ্জ পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর শীর্ষেও বসানো হয় তাকে। অবশেষে তৃণমূলের টিকিটে এবার বিধানসভা নির্বাচনেও লড়তে চলেছেন। তাই গোসা হওয়া কর্মীসমর্থকদেরও তিনি তাঁর বুদ্ধিতে সামলে নিতে পারবেন। এটা করতে পারলেই তাঁর জেতার পথ অনেকটাই মসৃন হবে বলে আশাপ্রকাশ করছেন। তবে শেষ অবধি গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে পারেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। এদিকে এই আসনে এবার পদ্মফুল ফোটা শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। তাদের একাংশ এও মনে করছেন যে পরেশবাবুকে তৃণমূল টিকিট দেওয়ায় বিজেপির জয়ের মার্জিন আরও বাড়বে। তাঁর বিরুদ্ধে ভোট প্রচার করতে বেশি সুবিধা হবে।

এপ্রসঙ্গে পরেশবাবু অবশ্য জানান, এখানে তৃণমূলের কোনওরকম গোষ্ঠীকোন্দল নেই। তৃণমূল দলের তরফে তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেবার পর থেকেই তিনি সকলকে একসাথে নিয়ে কাজ করে চলেছেন। বর্তমানেও সংগঠন অনেক মজবুত রয়েছে।দলের পক্ষ থেকে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করার পরেই তিনি এনিয়েও সকলের সাথে যোগাযোগ করে কর্মসূচি ঠিক করছেন। জয়ের বিষয়েও তিনি একশ শতাংশ আশাবাদী।

বিজেপি নেতা তথা দলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি দেবাশীষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মেখলিগঞ্জ বিধানসভাতেও বর্তমানে বিজেপির সংগঠন চাঙ্গা রয়েছে। মানুষ বিজেপির সাথে রয়েছেন তাই জেতাঁর বিষয়েও তাঁরা একশ শতাংশ আশাবাদী। পরেশবাবু তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ায় এবার তাদের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেও মনে করছেন।