উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিমল ঘোষ

299

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি: জন বারলা ও নিশীথ প্রামাণিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেয়েছেন সদ্য। কংগ্রেসের জমানার পর উত্তরবঙ্গ থেকে একসঙ্গে দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিন্তু আর দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতেই আবার উঠে এসেছে জলপাইগুড়ির পরিমল ঘোষের কথা। ছয়ের দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুপাড়ার বাসিন্দা পরিমলবাবু। রেলমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। উত্তরবঙ্গ থেকে পরিমলবাবুই ছিলেন প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

রাজনৈতিক পরিবারেই পরিমলবাবুর জন্ম। তাঁর বাবা নলিনীরঞ্জন ঘোষ জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট আইনজীবীর পাশাপাশি লোকসভার সদস্যও ছিলেন। পরিমলবাবুর ছেলে ঋদ্ধিমান ঘোষ বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি। তিনি এখন থাকেন কলকাতায়। কথাপ্রসঙ্গে ঋদ্ধিমানবাবু বলেন, ’উত্তরবঙ্গের প্রতি বাবার হৃদয়ে অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা ছিল। পিছিয়ে পড়া উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই উত্তরের রেল পরিকাঠামোর বিকাশ করেছিলেন বাবা। আমরা চাই, বর্তমানে মন্ত্রীরাও উন্নয়নের সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুক।‘

- Advertisement -

জলপাইগুড়িতেই থাকেন পরিমলবাবুর ভাইপো নরেন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ‘জলপাইগুড়িবাসী আজও জ্যাঠামশাইয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করেন। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের পরিকাঠামো বিকাশে রেল প্রতিমন্ত্রী হিসাবে জ্যাঠামশাই প্রচুর কাজ করেছেন।‘

১৯৬৮ সালে জলপাইগুড়িতে যে বিধ্বংসী বন্যা হয়েছিল, সেসময় পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছিলেন তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিমলবাবুও। সেসময় পরিমল ঘোষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সাতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেওযা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে সত্যিসত্যিই জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি এবং হলদিবাড়ি রুটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।

জলপাইগুড়ি বাবুপাড়ার বাসিন্দা টুটু চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিবেশী ছিল পরিমলবাবুর পরিবার। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টুটুবাবু বলেন, ‘পাশের বাড়িতেই থাকতেন পরিমলবাবুরা। প্রতিবেশী কেন্দ্রের মন্ত্রী হওয়ায় আমরাও গর্বিত হয়েছিলাম। পরিমলবাবু রানিনগর স্টেশনের পরিকাঠামো বিকাশে যেমন কাজ করেছেন তেমনি জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনেরও অনেক উন্নতি করেছেন।‘

প্রাক্তন সাংসদ তথা জলপাইগুড়ির বাসিন্দা দেবপ্রসাদ রায় বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন জলপাইগুড়ির পরিমল ঘোষ। তিনি ঘাটাল থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ম্যাডাম গান্ধি মন্ত্রীসভাতে পরিমলবাবুকে স্থান দিয়েছিলেন। যোগ্যতার সঙ্গে তিনি মন্ত্রীর কাজ করেছেন।‘ ইতিহাসবিদ ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষের মতে, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিমলবাবু আন্তরিক ছিলেন।

মন্ত্রিত্বের মেয়াদ ফুরোনোর পর আঙ্কারাতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পদে আসীন ছিলেন পরিমলবাবু। মন্ত্রী হিসাবে উত্তরবঙ্গের রেল পরিকাঠামোর বিকাশে অনন্যসাধারণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এদিকে, উত্তরবঙ্গের দুই সাংসদ জন বারলা ও নিশীথ প্রামাণিক সদ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। তাঁরা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিমলবাবুর দেখানো পথেই হাঁটবেন কি না, তা অবশ্য সময়ই বলবে।