উজ্জ্বলকুমার দাস, সামসী : দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মালতীপুরের শিশুউদ্যান। নবনির্মিত উদ্যানে গিয়ে গেটে তালা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে আসছে শিশুরা। কেবল শিশুরাই নয়, সকাল-সন্ধ্যা দুইবেলা বয়স্করাও হতাশ হচ্ছেন। বর্তমানে অবহেলায় অযত্নে ঝোঁপজঙ্গলে ভরে নষ্ট হচ্ছে ওই শিশুউদ্যানটি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে নবনির্মিত উদ্যানটি চালু করার এবং সেই সঙ্গে চাঁচলের রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পুকুরটি রক্ষারও দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দ অর্থে চাঁচল-২ নম্বর ব্লক কার্যালয়ের কাছে তথা মালতীপুর প্রাচীন কালীমন্দিরের সামনের বিশালাকার পুকুরের চারিদিকে একটি শিশুউদ্যান গড়ে তোলা হয়। চাঁচল-২-এর তৎকালীন বিডিও সইপা লামা এবং মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ছটিলাল নুনিয়ার উদ্যোগে প্রথমে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে পুকুরের মাটি খনন ও মাটি ভরাটের কাজ হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সিঁড়িঘাট বাঁধানো, বয়স্ক নাগরিক ও শিশুদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়। সবুজায়ন করতে মাঠের চারদিকে লাগানো হয় সারি সারি গাছ। এর জন্য প্রথমপর্বে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয়পর্বে আরও কিছু কাজ করবার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন মালতীপুর কালীবাড়ি এবং সামনের এই ঐতিহ্যবাহী বড়ো পুকুরটি কিছু মানুষ ও ঠিকাদাররা বেশি মাটি কেটে নষ্ট করে দেয়। এই দেখে তৎকালীন বিডিও সইপা লামা গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষ, প্রধান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ওই পুকুরটির রক্ষা ও শিশুউদ্যান তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। নির্মাণকাজ চালুও করে দেন। জোরকদমে কাজ শুরু হয়। বাইরে থেকে পলিমাটি নিয়ে এসে পুকুরটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রথমপর্বের কাজ শেষও হয়। কিন্তু আজও তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্যোগ নেয়নি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বা ব্লক কর্তৃপক্ষ। সর্বক্ষণ মেন গেটে তালা ঝোলানো থাকছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্যজিৎ সাহা, প্রাণকৃষ্ণ দাস, সঞ্জয় রজক, ভোলা রজক, পঙ্কজকান্তি দাস, সৌমেন সরকাররা জানান, মালতীপুরে নতুন নতুন বাড়ি তৈরি হওয়ার জন্য ক্রমশ কমছে খেলার মাঠ। পুরোনো ফুটবল মাঠটিও দেখভালের অভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই উদ্যানটি তৈরির সিদ্ধান্তে খানিকটা আশা দেখা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শীঘ্রই উদ্যানটি শুরু হোক চান মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান ছটিলাল নুনিয়া। তিনি জানান, মালতীপুরের শিশুউদ্যানটিতে দোলনা, ঢেকি প্রভৃতি থাকবে। বয়স্ক নাগরিকদের জন্য থাকবে বসার সিট, মর্নিংওয়াক করার জন্য চারিদিকে সাজানো রাস্তা, ফুলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওযা হয়। পুকুরের চারিদিকে কৃত্রিম পশুপাখি এবং জলে জ্যান্ত হাঁস খেলা করবে, মিরিকের মতো মাছ চাষ হবে। মনীষীদের স্ট্যাচু থাকবে। আর সেই সঙ্গে প্যাডেলযুক্ত নৌকাও থাকবে বিনোদনের জন্য। ২০১৭ সালে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মালতীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রশাসক তথা চাঁচল-২-এর বিডিও অমিতকুমার সাউ বলেন, যে পুকুরটিকে কেন্দ্র করে শিশুউদ্যানটি তৈরি হয়েছে, সেই পুকুরে প্রথম দফা কাজের পরও জলধারণ ক্ষমতা ফিরে আসেনি। ফের কৃষিদপ্তরের আধিকারিক, বৈজ্ঞানিক ও মাটি বিশেষজ্ঞদের জানিয়েছি বিষয়টি। পুকুরে জলধারণ ক্ষমতা ফিরে পেলে ঠিকাদার সংস্থার থেকে পার্কটি নেওয়া হবে। হস্তান্তর হয়ে গেলে পার্কটি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে খুলে দেওয়া হবে।