জলপাইগুড়ি শহরে পার্কিং জোন নেই

270

জলপাইগুড়ি : শহরের পার্কিং জোনের জন্য জাযগা চিহ্নিত করার পরেও দুবছরের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোনও জায়গাকে পার্কিং জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। দিন যত বাড়ছে সেই সঙ্গে শহরে গাড়ির সংখ্যা পাল্লা দিযে বাড়ছে। শহরে নির্দিষ্ট করে পার্কিং জোন না থাকার কারণে রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি, বাইক দাঁড়িযে থাকছে। রাস্তার প্রস্থ কমে গিয়ে ক্রমে যানজট সমস্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, শহরে একের পর এক শপিং মল তৈরি হলেও যার বেশিরভাগের নেই পার্কিংয়ে ব্যবস্থা। পার্কিং জোন ছাড়া কীভাবে শপিং মলের বিল্ডিং প্ল্যান পাস হচ্ছে তা নিযে প্রশ্ন উঠছে। শহর এলাকায় পার্কিং জোনের এই সমস্যাকে পুর নির্বাচনে বিরোধীরা ভোটের ইশ্যু তালিকায় রাখছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ সন্দীপ মাহাতো বলেন, ‘শহরে পার্কিং জোনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। শহরের বেশ কযেটি জাযগায পার্কিং জোন তৈরি করতে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। পার্কিং জোন তৈরির বিষযে আমরা জায়গা চিহ্নিত করেছি। খুব শীঘ্রই আমরা পার্কিং জোন চালু করব।’

পুর নির্বাচনে ওয়ার্ডের আসন সংরক্ষণের চড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। অপরদিকে, সংরক্ষণের ভিত্তিতে কোন ওয়ার্ডে কোন প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রতিটি দলে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডগুলিতে কাউন্সিলারদের স্কোর শীট কেমন রয়েছে তা শাসক-বিরোধীরা খতিয়ে দেখছে। একইভাবে প্রচারে স্থানীয় ও জাতীযস্তরের ইশু্য কী হবে তা নিযে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়স্তরের ইশ্যুগুলির মধ্যে শহরের পার্কিং জোনের সমস্যা অন্যতম। শহরে যানজট সমস্যার অন্যতম কারণ পার্কিং জোনের অভাব। নির্দিষ্ট করে শহরের কোথাও পার্কিং জোন নেই। ফলে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাজারহাট করতে হয় সাধারণ মানুষকে। শহরের রাস্তাগুলো যথেষ্ট সংকীর্ণ হওয়ার কারণে সেখানে যানবাহন দাঁড় করানো হলে যানজট সমস্যা তৈরি হয়। শহরের সব থেকে বেশি যানজট সমস্যা মার্চেন্ট রোড, দিনবাজার, কামারপাড়া, উকিলপাড়া, কদমতলা এবং ডিবিসি রোড এলাকায়। অথচ এই এলাকায় কোনও পার্কিং জোন না থাকার কারণে সমস্যা চরমে ওঠে। গত কয়েক বছরে একাধিক শপিং মল তৈরি হলেও সেগুলির বেশিরভাগের কোনও নিজস্ব পার্কিং জোন নেই। শপিং মলে আসা মানুষজন রাস্তায় গাড়ি পার্ক করতে বাধ্য হন। দুবছর আগে পুরসভার তরফে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং জোন তৈরির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পার্কিং জোন নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে পুরকর্তাদের বৈঠক হয়। পুলিশকে সঙ্গে নিযে কোথায় পার্কিং জোন তৈরি করা হবে তার বেশ কয়েকটি জায়গার চিহ্নিতকরণ হয়। সেই সময পুরসভার তরফে জানানো হয়েছিল শহরে মোট ১০টি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে স্থায়ী পার্কিং জোন তৈরির বিষয়ে চিহ্নিত করা জায়গায় পরিকাঠামো তৈরির কাজ হবে বলেও জানানো হয়েছিল। চিহ্নিত করা জায়গাগুলির মধ্যে সেই সময় বলা হয়েছিল সমাজপাড়া মোড়, ডিবিসি রোডে কমার্স কলেজের বিপরীতে রাস্তার পাশে ড্রেনের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব তৈরি করে পার্কিং জোন করা হবে। এমনকি কদমতলা মোড়, দিনবাজার এলাকাতেও বেশ কয়েকটি স্থান পার্কিং জোনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও জায়াগাকেই পার্কিং জোন হিসেবে ঘোষণা করেনি পুর কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

বিজেপির মোর্চার জেলা সভাপতি শ্যাম প্রসাদ বলেন, ‘শহরে একাধিক শপিং মল তৈরি হলেও সেগুলির অধিকাংশের পার্কিং জোন নেই। কীভাবে পার্কিং জোন ছাড়া পুরসভা প্ল্যান পাস করছে তা সকলের জানা দরকার। আমরা পুর নির্বাচনে পার্কিং জোনকে ইশ্যুর মধ্যে রাখব।’ পুরসভার সিপিএম কাউন্সিলার প্রদীপকুমার দে বলেন, ‘আমরা কয়েক বছর ধরেই শুনে আসছি শহরে পার্কিং জোন চালু হবে। মাঝে শুনেছিলাম জায়গাও নাকি চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি সবই মিথ্যে প্রতিশ্রুতিমাত্র।’ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘শহরে যানজটের অন্যতম কারণে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন না থাকা। আমরা গত কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি পার্কিং জোন হবে। আজও তৈরি হয়নি। আমাদের ভোটের স্থানীয় ইশ্যুগুলির মধ্যে পার্কিং জোনের সমস্যার বিষয়টি থাকবে।’

ছবি- কদমতলা মোড়ে পার্কিং।

তথ্য ও ছবি- সৌরভ দেব