জলের তোড়ে ভাঙল কুলিক-মহানন্দা বাঁধের একাংশ, সংস্কারের কাজ শুরু

257

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিনঘাটে নাগর নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে দিন পাঁচেক আগে। নেই নৌকা, নেই মাঝি। নৌকা এবং মাঝি না থাকায় বেঘোরে মরতে হল গর্ভবতী এক মহিলাকে। বুধবার বিকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। মৃত ওই গর্ভবতী গৃহবধূর নাম মুন্নি খাতুন (২৪)। বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বারসোই থানার বিঘোর হাট গ্রামে।

মৃত গৃহবধূর স্বামী মহন্মদ মশিউর বলেন, আমার স্ত্রী’র প্রসব বেদনা শুরু পর দীর্ঘ দুই ঘন্টা বাহিন ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকেও নৌকা না পেয়ে অবশেষে ঘুরপথে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে আসতে হয়। জরুরী বিভাগে আমার স্ত্রী’কে প্রবেশ করাতেই কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্ত্রী’কে মৃত বলে ঘোষণা করে। গৃহবধূর ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

- Advertisement -

এদিকে মৃত্যুর খবর চাউর হতেই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতার পরিবার-পরিজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে জল না বাড়লে তাঁদের মেয়েকে হারাতে হত না।

অন্যদিকে,নাগর নদীতে স্নান করতে গিয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। এদিন দুপুরে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবরে, মৃত ওই যুবকের নাম ইঞ্জামুল হক(১৮) বাড়ি করণদিঘী থানার বিলাসপুর গ্ৰামে।

এদিকে ক্রমশ জল বাড়তে শুরু করেছে কুলিক, মহানন্দা, সুঁই, নাগর। একের পর এক নদীর জল উপচে প্লাবিত রায়গঞ্জ ও ইটাহার ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রাম। মহানন্দার জল ইতিমধ্যেই গ্রাস করেছে চারটি পঞ্চায়েতের বসতবাড়ি থেকে শুরু করে আবাদি জমি। কুলিক নদীর আবদুলঘাটা এলাকায় নদী বাঁধ চুঁইয়ে জল ঢুকতে শুরু করলে তড়িঘড়ি সেচ দপ্তর বাঁধ মেরামত শুরু করে। বালি ও মাটির বস্তা দিয়ে কুলিক নদীর বিস্তীর্ণ বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে সেচ দপ্তর। বন্যার্তদের অনেকেই বাঁধের উপর অস্থায়ী ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

২০১৭ সালে রায়গঞ্জ ও ইটাহার ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ভেঙে গিয়েছিল একাধিক নদী বাঁধ। পরবর্তীকালে বাঁধ সংস্কার করা হয়েছিল। সেই বাঁধ ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। সেচ দপ্তরের জেলা কার্যনির্বাহী আধিকারিক উত্তম কুমার হাজরা বলেন, “বাঁধ গুলি সংস্কার করা হচ্ছে। লকডাউনের জন্য বৃষ্টির আগে কিছু কাজ বাকি ছিল। ইটাহারের মহানন্দার বাঁধ, পাজল বাঁধ, কুলিক বাঁধে ২৪ ঘন্টা নজর রাখা হচ্ছে।”

রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, “জলমগ্ন বাসিন্দাদের ত্রিপল সহ যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোনও সমস্যা হবে না।” গৌরী ও বাহির গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের তলায়। কুলিক নদীর জল বাড়ায় স্থানীয় শ্মশান জলে ভেসে গিয়েছে। এছাড়া গোয়ালদহ, জুগিয়ামের, অনন্তপুর, জগদীশপুর ও ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় এই বিপত্তি। নয়াটুলি ভিটিয়ার দুপদুয়ার এলাকার বাসিন্দারা জলবন্দি। নতুন করে মহানন্দার জল বাড়ায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ইটাহার ব্লকের পাজল, সুরুন গ্রামের বাসিন্দারা। এদিকে রায়গঞ্জ শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিনগর এলাকায় স্লুইসগেট দিয়ে জল ঢুকে যাওয়ায় জলমগ্ন হয়েছে বাড়িঘর বাঁধের উপর মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ ব্যানার্জি বলেন, “প্রতিবছর বর্ষার সময় আমারও ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়। সমস্ত ওয়ার্ডের জল আমার ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে। এটা নতুন কিছু নয়। ওয়ার্ডের একাংশ বাসিন্দারা বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। এদিন ১৭৫ টি ত্রিপল, শুকনো খাবার বিলি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি পুরসভার তরফে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, নতুন করে তিনটি কল বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্লুইসগেট দিয়ে যে জল ঢোকার কথা বলছে তা ঠিক নয়।”