বড় গাছ থেকে দুটো পাতা ঝরে পড়লে কিছু যায় আসে না: পার্থ

455

কলকাতা: আমপানের পর থেকেই দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়ার ডোমজুড়ের বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি রাজ্যের শাসকদলের সভা বা রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকও এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার সকালে তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন। সেই সঙ্গে চিঠির একটি কপি তিনি রাজভবনে গিয়ে তা রাজ্যপালের হাতে তুলে দেন।

রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করার কথা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন রাজীব। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন ধারণা করতে পারেননি যে তাঁকে একদিন এই পদক্ষেপ করতে হবে। দলের মধ্যে দিনের পর দিন অপমানিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজীববাবু মন্ত্রীত্ব ছাড়লেও বিধায়কের পদ থেকে যেমন ইস্তফা দেননি তেমনই দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেননি। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজীববাবু জানান, তিনি কখনও কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি ও ভবিষ্যতেও করবেন না। অন্য কেউ তা করলে সেটা তাঁদের ব্যাপার।

- Advertisement -

এদিন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাতে কোনও গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘একটা বড় গাছের ডাল থেকে এক দুটো পাতা খসে পড়লে বড় গাছের কোনও ক্ষতি হয় না।’ ওই কথা বলে পার্থবাবু তাচ্ছিল্য সহকারে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন যে, তৃণমূল একটি বড় দল। আর সেই দল থেকে এক-দুজন চলে গেলে তাতে কিছু এসে যায় না।

অপরদিকে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের যে নেতার কাজকর্মে ক্ষুব্ধ ছিলেন সেই হাওড়া শহর এলাকার তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়কে ওই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বা লক্ষ্মীরতন শুক্লা যে যাই করুক তাতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। হাওড়া শহর এলাকায় বিগত দিনে দলের প্রভাব যেমন ছিল তেমনই থাকবে।

এদিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীত্ব ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করলেও এখনও তিনি তৃণমূলের বিধায়ক ও প্রাথমিক সদস্য আছেন। সুতরাং ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে তিনি যদি বিজেপিতে আসতে চান তবে তাঁকে দলে স্বাগত।’

এদিন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রামনগরে একটি রোড শো করছিলেন। সেখানে তাঁকে রাজীববাবুর মন্ত্রীত্ব ত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু। এছাড়া তিনি একজন ভালো মানুষ। অপমানিত হয়ে মুখ বুজে তৃণমূলে পড়ে না থেকে মাথা উঁচু করে বিজেপিতে শামিল হওয়ার আহ্বান তিনি আগেই রাজীববাবুকে জানিয়েছিলেন।